Menu
Back to timeline

ওয়াশিংটন ডিসিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য

ওয়াশিংটন ডিসিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য

সম্মানিত আমেরিকান ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,

বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুগণ,

উপস্থিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সুপ্রভাত।

আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আপনাদের সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসনের আদর্শকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত এই দেশটির মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই।

আমাকে সরাসরি আমেরিকার জনগণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সবার কাছে বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

আজ আমি আপনাদের সামনে শুধু বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থিত হইনি। আমি কথা বলছি একজন মানুষ হিসেবে, যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করেছেন। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত একজন রাজনৈতিক কর্মী। আমার বক্তব্য কোনো ক্ষমতার অবস্থান থেকে নয়; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দেশসেবার অঙ্গীকার থেকে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য এবং মানুষের নিরাপত্তার মতো অভিন্ন স্বার্থ আমাদের দুই দেশকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

বাংলাদেশে কী ঘটছে, তা শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরও পড়ে।

আজ আমি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই—

১. বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি এবং সেগুলো সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে বাস্তবতা জানা প্রয়োজন।

২. বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনীতি ও আইনের শাসনের অবস্থা।

৩. ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে আমার প্রত্যাশা, পরিকল্পনা ও স্বপ্ন।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র নিয়ে আমার অবস্থান

আমি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি না। আমার প্রত্যাশা একটাই—বাংলাদেশকে সেই সর্বজনীন গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হোক, যে মানদণ্ড সারা বিশ্বে স্বীকৃত।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংবিধানের মর্যাদা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং আইনের চোখে সবার সমান অধিকার—এসবই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি।

গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবেই। সরকারের সমালোচনা হবে, বিরোধী দল প্রশ্ন তুলবে এবং জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনবে। এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা। কিন্তু রাজনৈতিক ভিন্নমতকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো দলকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা কিংবা লাখ লাখ নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার অস্বীকার করা কখনোই গণতন্ত্রের পরিচয় হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা থেকে তাদের মুছে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে যারা আমার সরকার বা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন, তাদের নাগরিক অধিকারও সমানভাবে সম্মান করতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের রাজনীতির ওপর দাঁড়াতে পারে না। আমাদের সামনে এগোতে হলে বিভাজনের পরিবর্তে সমঝোতা, সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ এবং প্রতিহিংসার পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আমরা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চাই, যেখানে ধর্ম, রাজনৈতিক পরিচয়, লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান কিংবা দেশের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ার কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। প্রত্যেক নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নিতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও কূটনৈতিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। সেই প্রভাবের সঙ্গে একটি দায়িত্বও যুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হওয়া উচিত বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। কে বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা করবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয়; এই সিদ্ধান্ত নেবেন বাংলাদেশের জনগণ।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের সঙ্গে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের জীবিকা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি তাই শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতা।

আমি চাই, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হোক। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ুক, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা গভীর হোক, নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও কার্যকর হোক এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হোক।

একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, জাপান কিংবা ইউরোপ—সবার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ কখনোই বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে পরিণত হওয়া উচিত নয়। বরং বাংলাদেশ হতে পারে বিভিন্ন অঞ্চল, অর্থনীতি ও সভ্যতার মধ্যে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।

২০২৪ সালের ঘটনা, বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন

আমার সরকারের ভূমিকা, ২০২৪ সালের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আমি এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে চাই না। বরং স্বচ্ছ ও যুক্তিসংগত আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, তিনি যে-ই হোন না কেন, তার বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি প্রক্রিয়ায়। আমার বিরুদ্ধেও যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেটির নিষ্পত্তি রাজনৈতিক বক্তব্য বা একতরফা ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বরং ন্যায়বিচারের স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে হওয়া উচিত।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, স্বজন হারানো পরিবার, বেআইনিভাবে আটক হওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগী মানুষ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের—সবার অধিকার বিবেচনায় নিতে হবে। প্রত্যেকের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, বিচারপ্রক্রিয়া যদি নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, তাহলে তা প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। ন্যায়বিচার ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়, আবার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ন্যায়বিচারও প্রতিষ্ঠিত হয় না।

আমি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি

আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজপথের সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা হবে।

যেখানে নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে জনগণের ভোটে, সহিংসতা বা ভয়ভীতির মাধ্যমে নয়। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন। তরুণরা ভয় ছাড়াই সরকারের সমালোচনা ও নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।

আমি এমন একটি দেশ চাই, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক অনুভব করবেন—এই রাষ্ট্র তাঁরও, এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাঁরও সমান অধিকার রয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের জনগণ আমাকে যে আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।

ইতিহাস আমার সরকারের মূল্যায়ন করবে। তবে সেই মূল্যায়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়গুলোও নিশ্চয়ই বিবেচনায় আসবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সুবিধার সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সংযোগ, দারিদ্র্য হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দেশ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তবে আমি এটাও মনে করি, উন্নয়নের অজুহাতে গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করা যায় না। আবার গণতন্ত্রের নামে উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশের প্রয়োজন একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় সমঝোতা। আমাদের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে—কোনো একক ব্যক্তির ওপর রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল করে রাখা যাবে না।

আমেরিকার জনগণ ও বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশিরা এ দেশের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, শ্রমজীবী মানুষ এবং কমিউনিটি নেতৃত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানরা নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায় আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন। আমি আশা করি, এই বন্ধন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব কোনো নির্দিষ্ট সরকার, রাজনৈতিক দল কিংবা সাময়িক মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই এই বন্ধুত্বকে দীর্ঘস্থায়ী ও আরও গভীর করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

ওয়াশিংটনের প্রতি আমার বার্তা

আমি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি না। আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিক।

আমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ চাই না। বরং চাই, বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে সম্মান করা হোক।

বাংলাদেশের সরকার কে পরিচালনা করবে, তা নির্ধারণের একমাত্র বৈধ অধিকার বাংলাদেশের জনগণের। আর সেই সিদ্ধান্ত হতে হবে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

এ লক্ষ্যে আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই—

১. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন: প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।

২. স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা।

৩. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের অধিকার রক্ষা করা।

৪. রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাধীনতা: প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা।

৫. সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা: ধর্মীয়, জাতিগত ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৬. আইনের যথাযথ প্রয়োগ: প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায়বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রক্ষা করা।

৭. অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা: বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

৮. শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা: রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনে সহিংসতার পরিবর্তে সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা।

আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে।

বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির অধিকার রাখেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংবিধানসম্মত।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

More from the timeline

View all