Menu
Back to timeline

শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন বই ও আশা — অন্তর্বর্তী সরকার কেড়ে নিয়েছে দুটোই

শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন বই ও আশা — অন্তর্বর্তী সরকার কেড়ে নিয়েছে দুটোই

“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, কোনো শিশুকে জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।”
শেখ হাসিনার এই কথাগুলো ছিল না কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর; এটি ছিল তাঁর অঙ্গীকার, এক জাতীয় আন্দোলন। টানা ১৬ বছর তিনি শিক্ষাকে জাতি গঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। প্রতি বছরের ১লা জানুয়ারি, সারা দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পেত — বিনামূল্যে, ভালোবাসায় ভরা এক উপহার, একজন নেত্রীর কাছ থেকে যিনি বিশ্বাস করতেন, জাতির ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে শিশুদের হাতে। এটি ছিল শুধু নীতি নয়, এক প্রতিশ্রুতি, এক দৃষ্টি, এক সমতা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস।

শেখ হাসিনার শিক্ষাবিপ্লব: দৃষ্টি, নীতি ও দায়িত্বের এক মেলবন্ধন

শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষা মানে ছিল কেবল বিদ্যালয় নয়, বরং জাতির পুনর্জাগরণ। তিনি বুঝেছিলেন, দারিদ্র্যহীন, মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই তাঁর সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষাই হয়ে ওঠে মূল চালিকাশক্তি।

তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত হয় শিক্ষার সুযোগ, বাড়ে শিক্ষার মান ও সমতা। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি — যা বছরে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেয়। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র বই দেওয়া নয়, বরং ছিল এক সামাজিক বিপ্লব — গ্রামীণ, দরিদ্র, এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরাও যাতে শহরের শিক্ষার্থীদের মতোই সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করাই ছিল এর লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা পাঠ্যবই প্রকাশ করেন পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় এবং ব্রেইল লিপিতে, দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য। এটি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার এক অসাধারণ উদাহরণ।

শিক্ষকের মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় অবকাঠামো নির্মাণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল লার্নিংয়ের প্রসার — এসব উদ্যোগ তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষাকে নতুন যুগে নিয়ে যায়। মেয়েশিশুর শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে আনেন, শিক্ষাকে নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান অস্ত্রে পরিণত করেন।

শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশে শিক্ষা ছিল জাতীয় উন্নয়নের হাতিয়ার। এটি শুধু একটি খাত নয়, বরং ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মে বিনিয়োগের এক মহাকাব্যিক প্রচেষ্টা।

আশার ভাঙন: অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাব্যবস্থার ধস

কিন্তু আজ সেই আশার প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিক্ষা খাত পড়েছে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলায়। শেখ হাসিনার গড়া শিক্ষার সাফল্যগুলো একে একে ভেঙে পড়ছে।

বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম প্রায় স্থবির। স্কুলগুলোতে বই পৌঁছায় না, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করে দিন, সপ্তাহ, মাস। পাঠ্যবছরের শুরুতেই বিদ্যালয়গুলো নীরব — যেন শিক্ষা হারিয়েছে তার প্রাণ। প্রশাসনিক অদক্ষতা, পরিকল্পনার অভাব এবং উদাসীনতা মিলে শিক্ষাকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার গভীরে।

এক সময় যে বাংলাদেশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার রোল মডেল, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ পতন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে গেছে গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। শিক্ষা বোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এসএসসিতে পাসের হার তীব্রভাবে কমেছে, আর এইচএসসিতে ৫৮.৮৩ শতাংশে নেমে এসেছে — যা দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এই অবস্থা কেবল পরীক্ষার ব্যর্থতা নয়; এটি এক গভীর নীতিগত সংকটের প্রতিফলন। শেখ হাসিনার সময়ে যেখানে শিক্ষক উন্নয়ন, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, ও আধুনিক পাঠ্যক্রম চালু হয়েছিল, সেখানে এখন সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বা অগ্রগতি স্থবির। নতুন নীতিগুলোতে নেই দিকনির্দেশনা, নেই লক্ষ্য, বরং আছে বিভ্রান্তি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা।

শেখ হাসিনার নির্মিত ভিত্তি ভেঙে পড়ছে

যেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা হয়ে উঠেছিল জাতির আশার প্রতীক, সেখানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেটিকে পরিণত করেছে অনিশ্চয়তার প্রতীকে। বইহীন শিশু, উদ্যমহীন শিক্ষক, হতাশ অভিভাবক — এই দৃশ্য আজ বাংলাদেশের বাস্তবতা।

এটি কেবল একটি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের পরিশ্রমে নির্মিত যে শক্ত ভিতের ওপর বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে এগোচ্ছিল, তা এখন ভেঙে পড়ছে অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতার ভারে।

যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তবে শুধু শিক্ষাই নয়, হারিয়ে যাবে জাতির সেই আলোকিত আগামী, যা একসময় শেখ হাসিনার হাতে আঁকা হয়েছিল বইয়ের পাতায়, শিশুর হাসিতে, আর শিক্ষার আশায় ভরা প্রতিটি নতুন বছরের ভোরে।

More from the timeline

View all