“মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে যারা নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে থাকে, প্রকৃত ফ্যাসিস্ট তারাই” — মোহাম্মদ এ. আরাফাত
সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকা অবশ্যই কাম্য। তবে কোনো সাংবাদিকের রাজনৈতিক অবস্থান বা মতাদর্শ থাকা কখনোই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। বিশ্বের প্রায় সব উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেই গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত থাকেন। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলা যায়—সেখানে ফক্স নিউজ ও সিএনএনের সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের অবস্থান সাধারণত যথাক্রমে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট রাজনৈতিক দর্শনের কাছাকাছি বলে বিবেচিত হয়। এটি বাস্তবতারই অংশ।
বাংলাদেশেও অনেক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রকাশ্যেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষপাত বা অবস্থান প্রদর্শন করেছেন এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবি কিংবা অন্যান্য সুবিধা পেয়েছেন। ইউনূসের সময়ে যেমনটি দেখা গেছে, তেমনি বর্তমান তারেক রহমানের প্রভাবাধীন সময়েও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে অনেককে কার্যত বিএনপির মুখপাত্রের ভূমিকায় দেখা যায়। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই; কারণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তাদেরও সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার।
সমস্যা সৃষ্টি হয় তখনই, যখন “নিরপেক্ষতা”র প্রশ্নটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তোলা হয়, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা কিংবা আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেন। এ ধরনের সাংবাদিকদের দ্রুতই “দলীয়”, “প্রচারক” কিংবা “পক্ষপাতদুষ্ট” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ একই মানদণ্ড খুব কম ক্ষেত্রেই বিএনপিপন্থী বা সরকারঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এই দ্বৈত মানদণ্ডই প্রকৃত সমস্যা।
ইউনূসের সময়ে যে প্রবণতার সূচনা হয়েছিল, তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী এবং সেই মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, বছরের পর বছর ন্যায়বিচার ছাড়াই কারাভোগ করতে হয়েছে, পেশাগতভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
যারা একদিকে নিরপেক্ষতার কথা বলেন, কিন্তু অন্যদিকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনকে সমর্থন করেন, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের পক্ষে নন। আর যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে থাকেন, প্রকৃত ফ্যাসিস্ট তারাই।
— মোহাম্মদ এ. আরাফাত
তথ্যমন্ত্রী, শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা