নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি
ক্ষমতায় আসার আট মাস পেরিয়ে গেলেও স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি—বরং বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতা, অপরাধ ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, গণপিটুনি এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো ক্রমেই জনজীবনের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।
যে সরকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের আমলে এসব সূচকে অবনতির অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই সরকারের সক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
আজ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কেবল—সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কি না, তা নয়; বরং আর কতদিন তাদের এই অনিশ্চয়তা ও ভয় নিয়ে বাঁচতে হবে?
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ব্যবধান যেন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
হত্যাকাণ্ডের ঊর্ধ্বগতি: নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি
একটি সরকারের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ২,০৭৬টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১২৯টি বেশি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে।
এগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি হত্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি স্বজনহারা জীবন এবং একটি সামাজিক ক্ষত। যখন প্রাণহানির ঘটনা কমানোর পরিবর্তে বাড়তে থাকে, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা: এক গভীর জাতীয় সংকট
নারী ও কিশোরীরাও সহিংসতার ভয়াবহতার বাইরে নেই। ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতন এবং যৌতুকজনিত সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী—
২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর ৩৭ জন নিহত হয়েছেন—ASK-এর তথ্য অনুযায়ী।
HRSS-এর জানুয়ারি–জুন সময়ের হিসাবে ১,৬২১ নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা, যার মধ্যে ২৩৮টি শিশু ও কিশোরী।
৮৮টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
ধর্ষণের পর ১৭ নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন।
৩২০ নারী পারিবারিক সহিংসতায় নিহত এবং ২১১ জন আহত হয়েছেন।
যৌতুকজনিত সহিংসতায় ১৯ নারী নিহত হয়েছেন।
আগস্ট মাসেই HRSS-এর হিসাবে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ২৪৯টি ঘটনা ঘটেছে; এর মধ্যে ৭৯টি ধর্ষণ, ৪৬টি ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের বিরুদ্ধে, ১৮টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং পারিবারিক সহিংসতায় ৪৯ নারীর মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত।
প্রায় চারশ নারী যদি মাত্র সাত মাসে ধর্ষণের শিকার হন এবং তাদের কয়েক ডজনের মৃত্যু ঘটে, তাহলে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
নারীর নিরাপত্তা কোনো পার্শ্ববর্তী বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রের মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতার অন্যতম প্রধান পরীক্ষা।
শিশুরাও নিরাপদ নয়
একটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের মধ্যে নিহিত। অথচ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তারাই ক্রমবর্ধমান সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
প্রথম ছয় মাসে ১,০৭৭ শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে এবং ৩০৫ শিশু নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু আগস্ট মাসে HRSS-এর হিসাবে ২৮২ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা কেবল আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়—এটি সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর গভীর দুর্বলতারও ইঙ্গিত।
একজন অভিভাবকের কাছে সবচেয়ে মৌলিক প্রত্যাশা হলো—তার সন্তান বাড়িতে, স্কুলে কিংবা আশপাশের এলাকায় নিরাপদ থাকবে। রাষ্ট্র যদি সেই নিশ্চয়তাটুকুও দিতে না পারে, তাহলে মানুষের আস্থার সংকট আরও গভীর হওয়া স্বাভাবিক।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: নিরাপত্তাহীনতার আরেক চিত্র
ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করছে। মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রদত্ত HRSS তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে—
২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে;
৪৪ জন নিহত হয়েছেন;
২৬১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন;
৬২টি উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাট হয়েছে;
৪৭টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে;
১৫টি উপাসনালয়কে ঘিরে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার কথা।
উপাসনালয়ে হামলা কিংবা কোনো সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা অপরিহার্য।
গণপিটুনি ও আইনের শাসনের সংকট
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কোনো সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার লক্ষণ নয়।
যখন মানুষ মনে করতে শুরু করে যে আদালত বা আইনগত প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না, তখন কেউ কেউ নিজেরাই ‘বিচার’ করার চেষ্টা করে। এর পরিণতি হতে পারে গণপিটুনি ও হত্যাকাণ্ড।
প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গণপিটুনিতে ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
HRSS-এর প্রথম ছয় মাসের হিসাবে ২৬১টি গণপিটুনির ঘটনা, ১৩৩ জন নিহত এবং ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। আগস্ট মাসেই আরও ৫৩টি গণপিটুনি ও মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিটি গণপিটুনি মূলত আইনের শাসনের প্রতি একটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে জনতা যদি অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করতে শুরু করে, তাহলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সমাজে আরও ভয়াবহ সহিংসতার পথ তৈরি হয়।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ
গণতন্ত্রের প্রাণ হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের অধিকার। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতা, মামলা, গ্রেপ্তার এবং হয়রানির অভিযোগ সেই পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৭৭ জন নিহত এবং ২,৯৭৪ জন আহত হয়েছেন।
আগস্ট মাসে HRSS-এর হিসাবে আরও ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, ৭ জন নিহত এবং ৫৩৬ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও ব্যাপক গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের হয়রানি এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।
কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী অপরাধ করলে অবশ্যই আইনের আওতায় আসবেন। কিন্তু অপরাধের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শাস্তি—এই দুই বিষয়কে এক করে ফেলা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক।
গণতন্ত্রে বিরোধী মতকে শত্রু হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কারাগারেও কি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই?
রাষ্ট্রের হাতে আটক একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার দায়িত্ব সরাসরি রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। তাই কারাগারে মৃত্যু বা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই স্বচ্ছ তদন্তের দাবি রাখে।
ASK-এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কারাগারে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আগস্ট মাসে HRSS আরও ৬টি কারাগার-হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।
প্রতিটি মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসার সুযোগ, কারা-নিরাপত্তা, নির্যাতনের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং চিকিৎসা অবহেলার সম্ভাবনা থাকলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
জবাবদিহির অভাব মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে পারে যে রাষ্ট্রের হেফাজতেও নাগরিক সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
আট মাসের চিত্র: উদ্বেগের এক দীর্ঘ তালিকা
প্রদত্ত তথ্যগুলো একত্র করলে চিত্রটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক:
২,০৭৬টি হত্যা মামলা — জানুয়ারি–জুলাই
৪০০ ধর্ষণের ঘটনা ও ধর্ষণের পর ৩৭ মৃত্যু — ASK, জানুয়ারি–জুলাই
১,৬২১ নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার — HRSS, প্রথম ছয় মাস
২৪৯ নারী ও কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার — HRSS, আগস্ট
১,০৭৭ শিশু সহিংসতার শিকার এবং ৩০৫ নিহত — প্রথম ছয় মাস
২৫৭ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ও ৪৪ মৃত্যু — প্রথম ছয় মাস
অন্তত ১৬২ গণপিটুনি-সম্পর্কিত মৃত্যু — জানুয়ারি–জুলাই ও আগস্টের প্রদত্ত হিসাব
অন্তত ৮৪ রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু — জানুয়ারি–জুলাই ও আগস্টের প্রদত্ত হিসাব
অন্তত ৭৭ কারাগার-হেফাজতে মৃত্যু — জানুয়ারি–জুলাই ও আগস্টের প্রদত্ত হিসাব
এই পরিসংখ্যানগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা কঠিন। কিন্তু একসঙ্গে বিবেচনা করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে আসে।
রাষ্ট্রের কাছে এখন সবচেয়ে জরুরি জবাবদিহি
নারী যদি নিজের ঘরে নিরাপদ না থাকেন, শিশু যদি সুরক্ষিত না থাকে, সংখ্যালঘু পরিবার যদি উপাসনালয়ে যেতে ভয় পায়, সাধারণ মানুষ যদি রাস্তায় গণপিটুনির আশঙ্কায় থাকে এবং রাজনৈতিক মত প্রকাশ করলে মামলা বা হয়রানির ভয় তৈরি হয়—তাহলে রাষ্ট্রের নাগরিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রশ্নের মুখে পড়বেই।
তবে এসব অভিযোগ ও পরিসংখ্যানের প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ জরুরি। রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নয়, প্রমাণ, তদন্ত ও জবাবদিহির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হওয়া উচিত—মানুষ কতটা নিরাপদ, আইন কতটা সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে এবং নাগরিকের অধিকার কতটা সুরক্ষিত।
মানবাধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।
আর সেই অধিকার রক্ষার দায়িত্বও কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়—রাষ্ট্রের।
তাই এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, আইনের শাসন; ভয় নয়, নিরাপত্তা; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার; এবং প্রচারণা নয়, বাস্তব জবাবদিহি।
বাংলাদেশের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়—নিরাপদ জীবন, ন্যায়বিচার এবং আইনের সমান সুরক্ষা চায়।