‘নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া খরচ করে হালাইছি’—প্রধান অতিথি না করায় বিএনপি নেতার ক্ষোভ
লক্ষ্মীপুরে বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি না করায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতার ক্ষোভ প্রকাশের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দলীয় পদের জন্য ৫০ লাখ টাকা খরচ করার কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। বিএনপির স্থানীয় আরেক নেতাকে ফোন করে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের এই অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করা ব্যক্তি হলেন রামগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ওরফে পলাশ। স্থানীয় নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া। তবে গিয়াস উদ্দিনের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
অডিওতে শোনা যায়, কথোপকথনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি না করায় মারুফ ভূঁইয়াকে তিরস্কার করছেন গিয়াস উদ্দিন। বলেন, তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েও অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে পারেননি। অথচ অন্য একজনকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়াসকে বলতে শোনা যায়, ‘মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন। আঁই হানিয়ালা স্কুলে যাই, আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, প্রধান অতিথি ওইতে হারিনো। আমনে কন, পলাইশশা কে?’
মারুফ ভূঁইয়ার উদ্দেশে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমনে কি সাংগঠনিক রাজনীতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দিবেননি, মারুফ ভূঁইয়া। আমনে বলে কইছেন, পলাইশশা কে? আমনে যদি সাংগঠনিক রাজনীতি না চর্চা করেন, আমনে ইউনিয়ন বিএনপি কীভাবে করবেন?’
কথোপকথনে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এর একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন ওরফে পলাশ বলেন, ‘আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই, আমনে কন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া খরচ করে হালাইছি।’
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পানিওয়ালা উচ্চবিদ্যালয়ে কয়েক মাস আগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠান নিয়েই বিএনপির দুই নেতার মধ্যে বিতণ্ডা হয়েছে।
জানতে চাইলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘অডিওটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে কথোপকথনের ঘটনাটি কয়েক মাস আগের। আমি বিষয়টি সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছিলাম। তাঁরা বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন। পলাশও আমাকে “সরি” বলেছেন।’
দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষকে নিয়ে তাঁরা বৈঠক করেন। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে দেওয়া হয়।
তবে অডিওটি এআই দিয়ে নির্মিত বলে দাবি করেন গিয়াস উদ্দিন। আজ সকালে তিনি বলেন, তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে অডিও তৈরি করা হয়েছে। দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।
রামগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সম্মেলন হয় ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে শেখ কামরুল কামরুজ্জামান সভাপতি এবং গিয়াস উদ্দিন ওরফে পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।