দুই সরকার, একটিই অব্যাহত ব্যর্থতা: জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ভয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে পরবর্তীকালের নির্বাচিত বিএনপি সরকার—পরপর দুই প্রশাসনের শাসনামলেই বাংলাদেশ যেন একই সংকটের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে সেই অনিশ্চয়তাকেই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
তথাকথিত জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পর বাংলাদেশ আজ গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনশৃঙ্খলা সংকটে আটকে আছে। জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার। কিন্তু বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন—আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সহিংসতা, বিচারহীনতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ ক্রমেই সামনে এসেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গুর ও উদ্বেগজনক
কারিগরি ও আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতার অন্তর্বর্তী শাসন থেকে শুরু করে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রশাসন—কোনোটিই স্থায়ীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। বরং অভিযোগ রয়েছে, জনগণের নিরাপত্তাহীনতাকে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মী, অপরাধী চক্র ও উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কিছু অংশ কার্যত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকার কি আইনশৃঙ্খলার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে?
জনতার হাতে বিচার ও মব-সন্ত্রাসের স্বাভাবিকীকরণ
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম উদ্বেগজনক বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে মব-জাস্টিস বা জনতার হাতে বিচার। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজিত জনতা নিজেরাই শাস্তি দেওয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর চিত্র উঠে এসেছে।
ASK: ২০২৫ সালে মব সহিংসতায় ১৯৭ নিহত
এই সহিংসতার প্রভাব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পৌঁছেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অধ্যাপকদের পদত্যাগে বাধ্য করা, প্রকাশ্যে হেনস্তা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাঙ্গনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রগোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিশৃঙ্খলা নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দুর্বলতার ফল হিসেবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজির বিস্তার
নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে রাজনৈতিক সহিংসতাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ওধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘাতে ৪১ জন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হন। একই সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতেই চারজন নিহত ও প্রায় ৪০০ জন আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব সংঘর্ষের পেছনে চাঁদাবাজি, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সহায়তা সোসাইটি (HRSS)-এর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্যেও রাজনৈতিক সহিংসতার একটি গুরুতর চিত্র পাওয়া যায়—৮৩০টি ঘটনায় ৫৬ জন নিহত এবং ৫,২৪৬ জন আহত।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী বাজার, পরিবহনকেন্দ্র এবং ব্যবসায়িক এলাকায় নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)-এর মূল্যায়নেও মব সহিংসতা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ অব্যাহত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা ও নির্বিচার দমন
জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতাও সংকটকে আরও গভীর করেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশ অস্ত্রাগার থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ অপরাধী চক্র, রাজনৈতিক সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হাতে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে ছিনতাই, ডাকাতি, সড়ক-অপরাধ এবং প্রকাশ্য সন্ত্রাসের মতো অপরাধ বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে প্রকৃত অপরাধ দমনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’সহ বিভিন্ন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন বা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মতো কঠোর আইন প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে।
HRSS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ২৩,১২১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিরোধী মতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখা হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ওধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে—এর মধ্যে গুলিতে ১৯ জন, নির্যাতনে ১৪ জন এবং হেফাজতে মারধরের কারণে সাতজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যার তথ্য
হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশের কারাগারে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সরাসরি পুলিশ হেফাজতে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬১ জনের কারাগারে মৃত্যু
অভিযোগ রয়েছে, অনেক রাজনৈতিক বন্দি সুস্থ অবস্থায় হেফাজতে যাওয়ার পর গুরুতর নির্যাতন, চিকিৎসায় বিলম্ব কিংবা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন। অর্থাৎ সরকার পরিবর্তনের পরও হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
জুলাই-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর। ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুরা সহিংসতা, সম্পত্তি দখল, যৌন নির্যাতন এবং নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মব সহিংসতা বৃদ্ধি
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দুই হাজারেরও বেশি হামলার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালেই সংগঠনটি ৫২২টি সাম্প্রদায়িক হামলার কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে ৬৬ জনের মৃত্যু, ৯৫টি মন্দির ও গির্জায় হামলা এবং সংখ্যালঘু নারী ও কিশোরীদের ওপর ২৮টি যৌন সহিংসতার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আরও ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা এবং ৪৪টি মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে।
ছয় মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দাবি
সমালোচকদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনাকে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। পরবর্তী বিএনপি সরকারও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
যৌন সহিংসতার মহামারি
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার চিত্রও গভীর উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৭৮৬টি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৪৩ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে।
HRSS একই বছরে ৮২৮টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার ৫৭ শতাংশ ভুক্তভোগী ছিল শিশু।
২০২৬ সালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম চার মাসে ১১৮ জন কিশোরী ধর্ষণের শিকার এবং ১৭ জন যৌন হামলার পর নিহত হয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠন শিশুরাই শব-এর হিসাবে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৮৬ শিশু নিহত এবং ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৮৬ শিশু নিহত, ৩৩৬ জন যৌন নির্যাতনের শিকার
বিচারহীনতার সংস্কৃতি
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় বিচার ও দণ্ডের হার অত্যন্ত কম হওয়াও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর ওপর সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ এক গবেষণায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় দণ্ডের হার মাত্র ৩ শতাংশ পাওয়া যায়।
ফলে অপরাধীরা কার্যত বিচারহীনতার সুযোগ পাচ্ছে—এমন অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, তদন্তে বিলম্ব এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
দুই প্রশাসন, এক ব্যর্থতা: ভয়কে শাসনের কৌশলে পরিণত করার অভিযোগ
মব হত্যা, রাজনৈতিক সহিংসতা, ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, জমি দখল, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি অভিন্ন চিত্র দেখা যায়: দুর্বল তদন্ত, বিলম্বিত বিচার এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ।
সমালোচকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী বিএনপি সরকার উভয়ই পুলিশ, প্রসিকিউশন ও বিচারব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাছাই করা দমন-পীড়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
ফলে নিরাপত্তাহীনতা এখন আর কেবল একটি সমস্যা নয়; বরং অনেকের চোখে এটি শাসনব্যবস্থার একটি কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পর জনগণ যে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রত্যাশা করেছিল, তার পরিবর্তে তারা পাচ্ছে ভয় ও অনিশ্চয়তা। হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। নারী ও শিশুরা যৌন সহিংসতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রশ্ন
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক রূপান্তর হিসেবে দেখার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিচারহীনতার অভিযোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও গভীর মনোযোগ দাবি করে।
বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অংশীদারদের উচিত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করা এবং যেকোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো।
একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা কেবল সরকারের হাতে ক্ষমতা থাকার ওপর নির্ভর করে না। এর ভিত্তি হলো আইনের শাসন, নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে চায়, তবে ভয়, প্রতিশোধ এবং মব-শাসনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও জবাবদিহি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। জনগণের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক অস্ত্র নয়, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে সেই পথের প্রথম পদক্ষেপ।