Menu
Back to timeline

চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডার কারসাজি ও লুটপাটে বিএনপির শাসন

চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডার কারসাজি ও লুটপাটে বিএনপির শাসন

প্রশাসনিক আশ্রয়ে কি গড়ে উঠছে নতুন দখলদারিত্ব?

ক্ষমতায় আসার এক বছরও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে চাঁদাবাজি, জমি ও সম্পত্তি দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের ওপর রাজনৈতিক চাপের নানা অভিযোগ সামনে আসছে।

২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি সরকার গঠন করার পর দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি বড় প্রত্যাশা ছিল—দেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে, প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর হবে এবং আইনের শাসন আরও শক্তিশালী হবে।

কিন্তু আট মাসেরও কম সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যে অভিযোগগুলো উঠে আসছে, তা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের নগর এলাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অভিযোগগুলো কেবল গোপনে সংঘটিত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড ঘটছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র কি আইন প্রয়োগ করছে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের সামনে প্রশাসনিক কাঠামো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে?


দৈনন্দিন চাঁদাবাজি: কারা দিচ্ছে, কারা নিচ্ছে?

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফুটপাতের বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক ও ছোট উদ্যোক্তারা চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন তালিকা ও অনুসন্ধানে রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক সক্রিয় চাঁদা আদায়কারী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকের নাম উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে DMP-এর সংকলিত তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীতে ১,২৮০-এর বেশি সক্রিয় চাঁদা আদায়কারী এবং ৩১৪ জন যুবদল ও ছাত্রদলের পৃষ্ঠপোষক চিহ্নিত করা হয়েছিল; তাঁদের একটি অংশ স্থানীয় রাজনৈতিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে এটি নিছক বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা নয়। বরং এটি রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে একটি সংগঠিত চাঁদাবাজি কাঠামো গড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি করে।

চাঁদার অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথা থেকে আসে?

ভোক্তার পকেট থেকে।

সবজি, নির্মাণসামগ্রী, স্ক্র্যাপ, পরিবহন ভাড়া কিংবা বিভিন্ন দৈনন্দিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত খরচের মাধ্যমে সেই অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে।

অর্থাৎ একজন ব্যবসায়ীকে দেওয়া চাঁদা শেষ পর্যন্ত একজন সাধারণ ক্রেতার বাড়তি মূল্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে।


টাকা না দিলে দখল?

চাঁদাবাজির পরবর্তী ধাপ আরও ভয়াবহ—দখল।

যেখানে নিয়মিত অর্থ আদায় যথেষ্ট নয়, সেখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জমি কিংবা সম্পত্তির ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠছে।

কুয়াকাটায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রায় ১৫০ জনের একটি দল ২০টি দোকান দখল করে তালাবদ্ধ করেছে, ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেছে এবং পণ্য লুট করেছে—এমন অভিযোগের কথা প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযুক্তদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। কারণ একজন নাগরিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি রক্ষা করার দায়িত্ব যেখানে রাষ্ট্রের, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার পরও যদি ভুক্তভোগী আরও হামলার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি কোথায় থাকবে?

গাইবান্ধা থেকে ঢাকার তেজগাঁও—বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি, বাজার, বালুমহাল, ইটভাটা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দখলের অভিযোগও সামনে এসেছে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।

একটি ঘটনায় ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতার ১ কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইটভাটা দখলের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রতিটিরই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগের পরিমাণ ও বিস্তৃতি যদি সত্য হয়, তাহলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।


বালু, স্ক্র্যাপ, পরিবহন—অবৈধ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত

স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুধু দোকান বা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বালু উত্তোলন, স্ক্র্যাপ ব্যবসা, বাস কাউন্টার, ফুটপাত, নির্মাণকাজসহ নানা অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে।

প্রদত্ত লেখায় দাবি করা হয়েছে, এসব অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

যদি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ব্যবহার করে স্থানীয় অর্থনৈতিক খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা বিস্তার লাভ করে, তাহলে তার প্রভাব শুধু আইনশৃঙ্খলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার নষ্ট হবে, ব্যবসার খরচ বাড়বে এবং বৈধ উদ্যোক্তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।


টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্ত্রের ছায়া

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

কিন্তু টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে যদি রাজনৈতিক প্রভাব, ভয়ভীতি কিংবা সশস্ত্র হস্তক্ষেপ প্রবেশ করে, তাহলে সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

চট্টগ্রামের বাংলাদেশ রেলওয়ের CRB এলাকায় টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের বাধা দিয়েছে, নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে প্রশ্ন একটাই—

টেন্ডার কি যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে, নাকি রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবেই ঠিক হবে কে সরকারি কাজ পাবে?

সরকারি চুক্তি যদি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার বদলে ভয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে তার মূল্য শেষ পর্যন্ত জনগণের করের টাকা থেকেই দিতে হবে।


নির্মাণ খাতেও চাঁদাবাজির অভিযোগ

আবাসন ও নির্মাণ খাতও এই চাপের বাইরে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

পল্লবী ও মিরপুরের মতো এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু করার আগেই স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রদত্ত লেখায় দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১০ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে এবং অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণস্থলে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটছে।

এ ধরনের পরিবেশ বিনিয়োগের জন্য ভয়াবহ।

একজন উদ্যোক্তা যদি বৈধ ব্যবসা শুরু করার আগেই রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অর্থ দেওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হন, তাহলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ কীভাবে স্বাভাবিক থাকবে?


সরকারের প্রতিক্রিয়া: কঠোর বক্তব্য, কিন্তু বাস্তবে কতটা ব্যবস্থা?

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। কিছু স্থানীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কাউকে দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা কি সমস্যার মূল সমাধান করতে পারছে?

কারণ একদিকে পুলিশি তালিকায় চাঁদাবাজদের নাম উঠে আসছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন।

কিছু অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও যদি একই অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং স্থানীয় প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে, তাহলে কেবল গ্রেপ্তার দিয়ে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন ঘটবে না।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে—রাজনৈতিক পরিচয় কখনো কখনো অভিযুক্তদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা তৈরি করছে।

যদি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় বহনকারী অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে একই ধরনের দৃঢ়তা দেখা না যায়, তাহলে আইনের সমতার প্রশ্ন উঠবেই।


রাষ্ট্র কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে বন্দি হয়ে পড়ছে?

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, সরকার পরিচালনা করবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে—এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সীমারেখা যদি অস্পষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সমস্যার শুরু সেখানেই।

পুলিশ, প্রশাসন, সরকারি জমি, টেন্ডার, বাজার কিংবা ব্যবসা—কোনো ক্ষেত্রেই দলীয় পরিচয় আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।

বিএনপির ভেতর থেকেই যদি চাঁদাবাজি ও দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠে থাকে, তাহলে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে স্বাগত জানানো উচিত। কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা হবে—দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই আইনি মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না।

কারণ শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ আর ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে নীরবতা—কোনোটিই আইনের শাসন নয়।


অর্থনীতির ওপর এর মূল্য কত?

চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের সবচেয়ে বড় শিকার শুধু ব্যবসায়ী নন—পুরো অর্থনীতি।

চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসার ব্যয় বাড়ে।

টেন্ডার কারসাজির কারণে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে পারে।

দখলের ভয়ে বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে যেতে পারেন।

রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যোগ্য উদ্যোক্তারা বাজার থেকে সরে যেতে পারেন।

আর শেষ পর্যন্ত এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

অর্থাৎ চাঁদাবাজি কোনো ‘স্থানীয় রাজনৈতিক সমস্যা’ নয়।

এটি মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সমস্যাও।


শেষ কথা

একটি সরকারকে বিচার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলো তার বক্তব্য নয়—মাঠের বাস্তবতা।

সরকার যদি বলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন; সরকার যদি বলে টেন্ডার উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ, কিন্তু ঠিকাদাররা ভয়ভীতি ও বাধার অভিযোগ করেন; সরকার যদি বলে নাগরিকের সম্পত্তি নিরাপদ, কিন্তু দখলের অভিযোগ অব্যাহত থাকে—তাহলে রাষ্ট্রের বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে একটি বিপজ্জনক ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছিল।

সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডার কারসাজি বা লুটপাটের অভিযোগকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না।

অপরাধী যদি বিরোধী দলের হয়, তাকে যেমন আইনের আওতায় আনতে হবে; ক্ষমতাসীন দলের হলে তাকেও একইভাবে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।

কারণ রাষ্ট্রের আইন যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বদলে যায়, তাহলে সেটি আর আইনের শাসন থাকে না—তা পরিণত হয় ক্ষমতার শাসনে।

বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে ব্যবসা করতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হবে না, জমি রক্ষা করতে দলীয় পরিচয় প্রয়োজন হবে না, টেন্ডার পেতে অস্ত্রের ভয় থাকবে না এবং ন্যায়বিচার পেতে ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদ প্রয়োজন হবে না।

রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি চাঁদাবাজের হাতে নয়—আইনের হাতে।

More from the timeline

View all