*৮ আগস্ট ২০২৪*: নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন ও নেতৃত্ব
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও ছাত্রনেতাদের আলোচনার মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ৮৪ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, তিনি শপথ গ্রহণের সময় বলেন, “আমি সংবিধান রক্ষা করব এবং আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করব” ।Al Jazeera
প্রশাসনিক ও বিচারিক সংস্কার
ড. ইউনুসের নেতৃত্বে সরকার প্রশাসন ও বিচার বিভাগে ব্যাপক সংস্কার শুরু করে। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও পাঁচজন আপিল বিভাগের বিচারপতি পদত্যাগ করেন, এবং নতুন বিচারপতিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া, শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করা হয় ।Dhaka Tribune
সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ। এই কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা । তবে, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ১০০ দিন পার হলেও নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় ।WikipediaFirstpost
যুব নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি
এই সরকারে উল্লেখযোগ্য ছিল তরুণদের অংশগ্রহণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাহিদ ইসলামকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আসিফ মাহমুদকে ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা বলেন, “যদি বাংলাদেশকে তার যুবসমাজ নেতৃত্ব দেয়, তবে দেশ তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে” ।Al Jazeera
চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, আগস্ট মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে ২৩ জন নিহত হন । এছাড়া, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রাখাইন করিডোর প্রকল্পের বিরোধিতা করেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেন, যা সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করে ।