*৬ জানুয়ারি ২০০৯* : শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন
৬ জানুয়ারি ২০০৯: শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ – বিস্তারিত বিবরণ (৬০০ শব্দে):
২০০৮ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দীর্ঘ দুই বছর পর। নির্বাচনটি ছিল বহুল প্রত্যাশিত এবং জনগণের কাছে এক গণতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক।
নির্বাচন ও বিজয়:
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পায় ২৩০টির বেশি আসন, আর মহাজোটের অন্যান্য দল—জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ প্রভৃতি মিলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৬৫। এই বিজয় ছিল আওয়ামী লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয়গুলোর একটি। দেশের জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল, তারা চেয়েছিল স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে যাওয়া—সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাধ্যমে।
শেখ হাসিনার শপথ গ্রহণ:
এই বিপুল বিজয়ের ফলে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের উপস্থিতিতে। তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ করান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। একই দিনে তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। মন্ত্রিসভায় স্থান পায় নতুন মুখ, অনেক তরুণ এবং দক্ষ রাজনৈতিক নেতা।
শেখ হাসিনার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০০৭-২০০৮ সালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার একটি অবসান ঘটে। এটি ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূনঃপ্রতিষ্ঠার এক শক্তিশালী পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট:
শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার সময় দেশ ছিল নানা সংকটে আক্রান্ত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি ছিল তখনকার বাস্তবতা। এছাড়াও, সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কাল দেশের জনগণের মনে গণতন্ত্রের প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার সরকার একটি নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠে।
সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুতি:
শেখ হাসিনা তার শপথ গ্রহণের পরপরই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার এবং বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই সরকার হবে জনকল্যাণমুখী ও স্বচ্ছতা নির্ভর। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন, যা ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার।
ভবিষ্যতের রূপরেখা:
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রথম থেকেই মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়, শিক্ষাখাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ, কৃষিতে ভর্তুকি, এবং বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ—এসব উদ্যোগ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার কূটনৈতিক নৈপুণ্যও গুরুত্ব পায়।
উপসংহার:
৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এটি ছিল গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সূচনা। তার শপথ গ্রহণ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি জাতির নবযাত্রার সূচনাও বটে। এই শপথ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার প্রতীক এবং নতুন ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল।