Menu
Back to timeline

২০২৪ (মে) – চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ আংশিক চালু

২০২৪ (মে) – চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ আংশিক চালু

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ আংশিক চালু (২০২৪)

২০২৪ সালের মে মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে। এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত এই রেলপথের উদ্বোধন শুধুমাত্র একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, বরং এটি দেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়ার একটি অন্যতম ধাপ।

প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন একটি বৃহৎ প্রকল্প, যার কাজ শুরু হয় ২০১০-এর দশকে শেখ হাসিনার সরকারের সময়েই। মূল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দোহাজারী (চট্টগ্রাম)-কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কক্সবাজারকে দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যা অতীতে সম্ভব ছিল না।

এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৮টি নতুন রেলস্টেশন নির্মিত হয়েছে—দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চুনতি, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার এবং একটি নতুন টার্মিনাল স্টেশন। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এসব স্টেশন আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্যশৈলী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নির্মিত হয়েছে।

আংশিক উদ্বোধনের তাৎপর্য

২০২৪ সালের মে মাসে যে আংশিক উদ্বোধন করা হয়েছে, তাতে রেলপথের চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সেকশনের ট্রায়াল ও যাত্রী পরিবহন শুরু করা হয়। প্রথম দিকে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও এটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য প্রস্তুতির অংশ। এতে করে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে যাত্রা করা মানুষের জন্য আরামদায়ক, নিরাপদ ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

এই রেলপথে আধুনিক ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (DEMU) ট্রেন চালু করা হয়েছে যা উচ্চগতির এবং আরামদায়ক। প্রতিটি ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচ, আধুনিক সিটিং ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।

আর্থ-সামাজিক প্রভাব

রেললাইনটি চালু হওয়ায় কক্সবাজার অঞ্চলের অর্থনীতিতে একটি ব্যাপক পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটনখাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কক্সবাজারে বছরে প্রায় এক কোটির বেশি পর্যটক ভ্রমণ করে, কিন্তু অতীতে রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে অনেকেই নিরাপদে ও সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থ হতেন। নতুন রেলপথের মাধ্যমে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।

এছাড়া স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে, যা বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

সরকারের উন্নয়নভিত্তিক দর্শন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ শেখ হাসিনার সরকারের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘Vision 2021’ এবং ‘Vision 2041’-এর অংশ হিসেবে সারাদেশে রেল সংযোগ উন্নত করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, এই রেলপথ তার বাস্তব রূপ। এই প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর আর্থিক সহায়তা রয়েছে, যা প্রকল্পের মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথটি ভবিষ্যতে টেকনাফ পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে এই রেলপথকে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত করারও উদ্যোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে একটি আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব।

উপসংহার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের আংশিক উদ্বোধন বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং উন্নয়ন দর্শনের সফল বাস্তবায়নের একটি অনন্য উদাহরণ এটি। পর্যটন, ব্যবসা এবং জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আরও দৃশ্যমান হবে।

More from the timeline

View all