২০২৪ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পূর্ণরূপে চালু হওয়া একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এই প্রকল্পটি শুধু রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করে তুলেছে, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ এবং নগর ব্যবস্থাপনাতেও এনেছে এক নতুন গতি।
প্রকল্পের পটভূমি ও উদ্দেশ্য
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি প্রথম ঘোষণা করা হয় ২০১১ সালে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানজট কমানো এবং দ্রুত গতির বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ১৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও, ফার্মগেট হয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ঢাকা শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে কাজ করে।
নির্মাণ ও বাস্তবায়ন
চীনের ‘চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ’ এবং থাইল্যান্ডের ‘ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড’ যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, বাংলাদেশ সরকারের ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP)’ মডেলে। প্রকল্পটি তিনটি ধাপে ভাগ করে নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ধাপ আংশিক চালু হয়, যা বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অংশ নির্মাণ শেষে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সম্পূর্ণ এক্সপ্রেসওয়েটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
এই এক্সপ্রেসওয়েটি চার লেনবিশিষ্ট, যার উভয় পাশে র্যাম্প রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে যানবাহন উঠতে ও নামতে পারে। এতে ৩১টি র্যাম্প এবং ১৫টি টোল প্লাজা রয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে এই এক্সপ্রেসওয়েতে, যা নগরের ট্রাফিক চাপ অনেকটাই হ্রাস করবে।
সুবিধা ও প্রভাব
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার ফলে ঢাকা শহরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আগে যে রাস্তায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগত, এখন সেখানে ১৫-২০ মিনিটেই যাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে শ্রমঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে, জ্বালানি খরচ কমেছে এবং বায়ু দূষণ হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়া এই এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আবাসন, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে নগর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
এই প্রকল্পটি আওয়ামী লীগ সরকারের মেগা প্রকল্পসমূহের একটি সফল উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। শুধু রাজধানী নয়, এটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথেও দ্রুত সংযোগ নিশ্চিত করে জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
উপসংহার
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২০২৪ সালের মার্চে পূর্ণরূপে চালু হওয়ায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এটি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার এক মাইলফলক, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য শহরের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই প্রকল্প তারই বাস্তব প্রমাণ।