Menu
Back to timeline

২০২৪ (ডিসেম্বর) – স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ও ডিজিটাল সার্ভিসের সম্প্রসারণ ৯৫% অঞ্চলজুড়ে

২০২৪ (ডিসেম্বর) – স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ও ডিজিটাল সার্ভিসের সম্প্রসারণ ৯৫% অঞ্চলজুড়ে

২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (Smart NID) এবং ডিজিটাল সেবার (Digital Services) বিস্তৃতি এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন এটি দেশের ৯৫% অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ কৃতিত্বের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার, যারা “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় “স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১” গড়ার রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে।

স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের বিস্তৃতি

স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র চালুর লক্ষ্য ছিল একটি নিরাপদ, আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। ২০১৬ সালে এর প্রাথমিক প্রচলন শুরু হলেও ২০২৪ সালের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নাগরিকদের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

এই স্মার্ট পরিচয়পত্রে রয়েছে মাল্টি-লেভেল সিকিউরিটি ফিচার, যেমন—চিপযুক্ত তথ্য সংরক্ষণ, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন, QR কোড, ফটো ও ডিজিটাল সিগনেচার। এর ফলে নাগরিকরা ব্যাংকিং, ভূমি রেজিস্ট্রেশন, সরকারি ভাতা গ্রহণ, কর শনাক্তকরণ, মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে একটিমাত্র পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারেন।

ডিজিটাল সার্ভিসের বিস্তৃতি

স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাও ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। “একটি বাড়ি, একটি সার্ভিস” নীতিতে চালু হয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC), যা ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রায় সব ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করে। এসব সেন্টারের মাধ্যমে নাগরিকরা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, জমির খতিয়ান, ট্রেড লাইসেন্স, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা, কৃষি ও স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত তথ্য সহজে ও স্বল্পমূল্যে পেতে শুরু করেন।

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ তাদের সেবাকে অনলাইনে নিয়ে আসে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল খতিয়ান ও নামজারি সেবা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ই-প্রেসক্রিপশন ও টেলিমেডিসিন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা (Mobile Banking, Nagad, bKash) ও ই-নাগরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে এই সেবাগুলোর সংযোগ স্থাপন করা হয়।

প্রভাব ও জনগণের প্রতিক্রিয়া

এই ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের ফলে দুর্নীতি হ্রাস, সেবার গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সময় ও অর্থ সাশ্রয় নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ জনগণ, বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ নাগরিকরা এই সেবার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যন্ত সবাই স্মার্ট NID ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে উপকৃত হন।

আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগকে অনেকেই একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা দেশের নাগরিকত্ব ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিয়ে এসেছে। এটি দেশের প্রযুক্তি-ভিত্তিক উন্নয়ন দর্শনের বাস্তব রূপায়ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপসংহার

স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ও ডিজিটাল সেবার এই বিস্তার শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক নেতৃত্বে এই রূপান্তর ভবিষ্যতের “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার পথে এক শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।

More from the timeline

View all