২০২২ (জুলাই) – পদ্মা সেতু উদ্বোধন ও যান চলাচল শুরু (নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ)
২০২২ সালের ২৫ জুন বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। ২৬ জুন থেকে সাধারণ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেতুটি। পদ্মা নদীর উপর নির্মিত ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য অংশের সড়ক যোগাযোগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়।
পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহারের পর ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে। এই সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল দেশের ইতিহাসে আত্মনির্ভরতার প্রতীক। সেতু প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, যার পুরোটা সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালনা করে।
পদ্মা সেতু নির্মাণে জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ যুক্ত ছিল। সেতুর মূল কাঠামো স্টিল-ট্রাস ডেক এবং কংক্রিট পায়ার দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এতে রয়েছে রেলপথ ও সড়কপথ—দুইটি স্তর। প্রথমে সড়কপথ চালু হয় এবং পরবর্তী সময়ে রেল চলাচলের জন্য নিচের অংশটি উন্মুক্ত করার কাজ চলছে।
এই সেতু দেশের ২১টি জেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে, যা শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন, পণ্য পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং সময় সাশ্রয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, এটি বাঙালির আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও সম্মানের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে, পদ্মা সেতু তার বাস্তব প্রমাণ। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার এক স্থায়ী নিদর্শন হয়ে থাকবে।