Menu
Back to timeline

২০২১ (ডিসেম্বর) – ১০০% বিদ্যুতায়নের ঘোষণা

২০২১ (ডিসেম্বর) – ১০০% বিদ্যুতায়নের ঘোষণা

২০২১ (ডিসেম্বর) – ১০০% বিদ্যুতায়নের ঘোষণা: আওয়ামী লীগের অর্জন

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল বাংলাদেশ, যা ছিল বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম বড় নির্বাচনী অঙ্গীকার। বিদ্যুৎ খাতে এই সাফল্য দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পটভূমি

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছিল। উৎপাদন ছিল মাত্র ৪,৯৪২ মেগাওয়াট এবং প্রায় ৪০% মানুষ তখনও বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত ছিল। সরকারি নীতিনির্ধারকরা সে সময় বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার খাতে পরিণত করেন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

সরকার ‘ভিশন ২০২১’-এর অংশ হিসেবে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। এই লক্ষ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি অফ-গ্রিড সিস্টেম যেমন সৌর বিদ্যুৎকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, দ্বীপ, পাহাড়ি এলাকা ও হাওর অঞ্চলে সৌর হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

২০১৬ সালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, "২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে।" সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ, পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড (PDB ও REB), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB), ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিলিতভাবে কাজ করে।

২০২১ সালের ঘোষণা

২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শতভাগ বিদ্যুতায়ন’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, “আজকের দিনে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলাদেশের কোনো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন নেই।”

এই ঘোষণার মাধ্যমে বোঝানো হয়, দেশের ১৩৪টি উপজেলায় যেগুলো আগে বিদ্যুৎহীন ছিল, সেগুলোতেও বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী উন্নয়ন।

প্রভাব ও সুফল

শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষিখাতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। কৃষকরা বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থায় উপকৃত হয়েছেন, শিক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে পারছে, ই-লার্নিং ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। শিল্প কারখানার উৎপাদন বেড়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আর শহর-গ্রাম বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে।

সমালোচনা ও বাস্তবতা

যদিও সরকার শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছে, বাস্তবে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত বা দুর্বল। বিশেষ করে দূরবর্তী ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে লো-ভোল্টেজ ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের অভিযোগ আছে। তবে সরকার দাবি করছে, এসব সমস্যাও ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে।

উপসংহার

২০২১ সালের শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ নয়, বরং এটি ছিল দেশের আধুনিকায়নের পথে একটি বড় সাফল্য। আওয়ামী লীগ সরকারের এ অর্জন বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।

More from the timeline

View all