Menu
Back to timeline

২০২১ (জুলাই) – কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী দেশ

২০২১ (জুলাই) – কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী দেশ

২০২১ সালের জুলাইয়ে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অগ্রগামিতা: আওয়ামী লীগের ভূমিকা

২০২১ সালের জুলাই মাসে, বাংলাদেশ কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি অগ্রগামী দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এই অগ্রগতির পেছনে ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম থেকেই মহামারির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২০২১ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশ কোভ্যাক্স (COVAX) কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের প্রচেষ্টা জোরদার করে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা 'কোভিশিল্ড' আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ে টিকাদান শুরু করে জানুয়ারি ২০২১ সালে। যদিও পরে ভারতের টিকা রপ্তানি বন্ধের ফলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে, তবে সরকার চীনের সিনোফার্ম, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি এবং পরে ফাইজার ও মডার্না টিকার ব্যবস্থা করে।

২০২১ সালের জুলাই মাস নাগাদ বাংলাদেশ প্রায় ১ কোটি মানুষকে অন্তত প্রথম ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়। এই সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টিকাদান কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত ও দ্রুত। ভার্চুয়াল নিবন্ধন পদ্ধতি (সুরক্ষা অ্যাপ) চালু করে আওয়ামী লীগ সরকার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করে তোলে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে সারাদেশে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েও টিকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও মাঠপর্যায়ে জনগণকে সচেতন করতে ও টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামের মানুষকে নিবন্ধন করতে সহায়তা করা, গুজব দূর করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকাদান কেন্দ্র পরিচালনা—এসব কাজেও দলীয় ও সামাজিকভাবে সমন্বিত প্রচেষ্টা দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের এই সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং টিকাদানে অনাগ্রহ অনেকটাই দূর হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেছে, তার সুফল এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কাজে লেগেছে।

ফলে ২০২১ সালের জুলাই মাস নাগাদ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে টিকাদানের দিক দিয়ে অন্যতম সফল দেশ হিসেবে উঠে আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে স্বীকৃতি দেয়।

সার্বিকভাবে বলা যায়, কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেশের জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, বিশেষ করে টিকাদান কার্যক্রমে নেতৃত্ব, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

More from the timeline

View all