Menu
Back to timeline

২০২০ (ডিসেম্বর) – করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সফল টিকা কার্যক্রম শুরু প্রস্তুতি

২০২০ (ডিসেম্বর) – করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সফল টিকা কার্যক্রম শুরু প্রস্তুতি

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়, যখন আওয়ামী লীগ সরকার করোনাভাইরাস (COVID-19) মহামারি মোকাবেলায় একটি সফল টিকাদান কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।

প্রেক্ষাপট:

২০২০ সালের শুরুতেই করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। মার্চ ২০২০-এ প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকার তাৎক্ষণিক লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে সকলেই জানতেন, স্থায়ী সমাধান একমাত্র একটি কার্যকর টিকা।

টিকাদান কার্যক্রমের প্রস্তুতির সূচনা:

ডিসেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান COVID-19 টিকা আবিষ্কারে সফল হতে থাকে। এর মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ‘Covishield’ টিকা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া উৎপাদন করতে থাকে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার খুব দ্রুত কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে এই টিকা বাংলাদেশের জন্য আমদানি নিশ্চিত করতে।

সরকার ও সেরাম ইনস্টিটিউট চুক্তি:

বাংলাদেশ সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুসারে, সেরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে ৩ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করবে। বেক্সিমকো ছিল এই টিকার একমাত্র পরিবেশক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই চুক্তির কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

অবকাঠামোগত প্রস্তুতি:

ডিসেম্বর ২০২০ থেকেই দেশে টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোল্ড চেইন নিশ্চিত করতে ফ্রিজার, হিমায়ন গাড়ি ও লোকবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। আইসিডিডিআরবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), এবং ইউনিসেফের সহায়তায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়।

জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি:

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকা গ্রহণে উৎসাহ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন চালায়। মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয় যাতে মানুষ টিকা নিয়ে ভয় বা গুজবে না পড়ে।

সফল বাস্তবায়নের ভিত্তি:

এই প্রস্তুতির ফলেই ২০২১ সালের জানুয়ারিতে টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হয় এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি হিসেবে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং আওয়ামী লীগের সংগঠিত ভূমিকা বাংলাদেশকে এই সফলতা এনে দেয়।

উপসংহার:

ডিসেম্বর ২০২০-এ নেওয়া উদ্যোগগুলো ছিল COVID-19 মোকাবেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টিকাদান কার্যক্রমের সুচারু প্রস্তুতি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সংকটে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় তার একটি মডেল হয়ে দাঁড়ায়।

More from the timeline

View all