*২০১৮* : শেখ হাসিনা নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করে টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন।
২০১৮ সাল ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বছর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যা নিয়ে দেশব্যাপী উত্তেজনা, আলোচনা ও বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এটি ছিল তাঁর টানা তৃতীয় এবং মোট চতুর্থ মেয়াদ।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জামায়াতে ইসলামী কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। অপরদিকে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ তাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরে আওয়ামী লীগ।
নির্বাচনের ফলাফল
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পায়, যার মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে পায় ২৫৭টি আসন। বিএনপি মাত্র ৭টি আসন পায়। এ ফলাফল ছিল আওয়ামী লীগের জন্য এক রেকর্ড সংখ্যক আসনপ্রাপ্তি এবং শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার এক বড় প্রমাণ।
শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়া
২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো এবং টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই মেয়াদে তিনি আরও বেশি পরিপক্ব, আত্মবিশ্বাসী ও পরিকল্পিত নেতৃত্ব প্রদর্শন করেন। তার নেতৃত্বে নতুনভাবে পরিকল্পনা করা হয় ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’, যা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
অর্জন ও লক্ষ্য
তার সরকারের এই মেয়াদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিখাতে উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি, মেট্রোরেল প্রকল্প ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ ছিল এই সরকারের বড় সাফল্যগুলোর মধ্যে।
বিতর্ক ও সমালোচনা
যদিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার নানা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে, তবুও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে কিছু বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা যায়। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থা অভিযোগ তোলে, নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, এবং বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেয়া হয়েছে। তবে সরকার এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং ফলাফলকে জনগণের রায় বলে মনে করে।
উপসংহার
২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিজয় কেবল একজন নেতার নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দর্শনের, একটি উন্নয়নের রূপরেখার ওপর জনগণের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর নেতৃত্বে দেশ একটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যায়, যেখানে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য স্পষ্ট। যদিও বিতর্ক ছিল, তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি সামনে এগিয়ে গেছে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০১৮ সালের এই বিজয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।