২০১৮ সালের ১২ মে ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে, যেদিন বাংলাদেশ তার প্রথম কৃত্রিম যোগাযোগ উপগ্রহ “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১” মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অধিকারী ৫৭তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন যুগের সূচনা হয়।
প্রকল্পের সূচনা ও উদ্দেশ্য
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ প্রকল্পটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা।
স্যাটেলাইটটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নামে, যা ছিল জাতির প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য ও জাতীয় গর্বের প্রতীক।
নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত দিক
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ তৈরি করে Thales Alenia Space, একটি ফ্রান্স ও ইতালি-ভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটটি তৈরি হয় Spacebus-4000B2 প্ল্যাটফর্মে, যা একটি আধুনিক ও উন্নত কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট প্ল্যাটফর্ম।
এটির মোট ওজন প্রায় ৩,৫০০ কেজি এবং এর কার্যক্ষমতা সময়সীমা ১৫ বছর। স্যাটেলাইটটি ৪০টি ট্রান্সপন্ডার নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ২৬টি C-band এবং ১৪টি Ku-band ট্রান্সপন্ডার রয়েছে।
উৎক্ষেপণ ও মহাকাশে যাত্রা
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে, SpaceX এর Falcon 9 Block 5 রকেট ব্যবহার করে। এটি ছিল SpaceX-এর নতুন সংস্করণের প্রথম ব্যবহার। রকেটটি সফলভাবে উপগ্রহটি জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) স্থাপন করে, যার কক্ষপথ ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নির্ধারণ করা হয়।