২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে, যেখানে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭টি আসন পায়। পুরো মহাজোট মিলে তারা ২৮৮টি আসন লাভ করে, যা সংসদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। এই জয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পথ সুগম করে এবং তাকে বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপি এবং তার জোট ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়। এটি ছিল বিএনপির জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং দেশের রাজনীতিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়কালে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল।
অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে মহাজোটে ছিল জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ আরও কয়েকটি দল। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ছিল গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও আরও কয়েকটি ছোট দল। এই নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেন ড. কামাল হোসেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ
আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭টি আসনে জয়লাভ করে, যা ২০০৮ সালের নির্বাচনেও ছাড়িয়ে যায়। তাদের প্রধান মিত্র জাতীয় পার্টি পায় ২২টি আসন। বিএনপি পায় মাত্র ৫টি আসন, যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। নির্বাচনে মোট ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ, যা একটি উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নির্দেশ করে।
বিজয়ের কারণসমূহ
১. উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জনসাধারণের আস্থা অর্জন করে।
২. নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: জঙ্গি দমন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সরকারের প্রতি