Menu
Back to timeline

২০১৭ (এপ্রিল) – বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

২০১৭ (এপ্রিল) – বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

২০১৭ (এপ্রিল): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন — বিস্তারিত বিবরণ (প্রায় ৫০০ শব্দে)

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রান্ত হয় — বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। এই স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ (communication satellite), যা দেশকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে প্রবেশ করানোর পথ সুগম করে। এ প্রকল্পের নামকরণ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে।

প্রকল্পের পটভূমি:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় যারা নিজেদের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

প্রস্তুতির অগ্রগতি (এপ্রিল ২০১৭ পর্যন্ত):

২০১৭ সালের এপ্রিল নাগাদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি ও পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করে। স্যাটেলাইটটি নির্মাণে ফ্রান্সের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস (Thales Alenia Space) প্রধান প্রযুক্তিগত সহযোগী ছিল। স্যাটেলাইটের ওজন প্রায় ৩,৫০০ কেজি এবং এটি জিওস্টেশনারি কক্ষপথে (geo-stationary orbit) ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল।

এপ্রিলে এসে স্যাটেলাইটটির ইঞ্জিনিয়ারিং, কনফিগারেশন ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয় এবং এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করা হয়। প্রস্তুতির এই পর্যায়ে স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল এ অবস্থিত স্পেসএক্স (SpaceX) উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আর্থিক ও কারিগরি দিক:

বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পে প্রায় ২৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে, যার একটি অংশ ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (COFACE) থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কু-ব্যান্ড ও সি-ব্যান্ডে কাজ করে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং কিছুটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল কভার করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লাভ:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিভিশন সম্প্রচার, ইন্টারনেট ও জরুরি যোগাযোগ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করে। এ ছাড়া বিদেশি কোম্পানিকে ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পরিকল্পনাও করা হয়।

উপসংহার:

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া ছিল একটি গৌরবময় অর্জন। এটি শুধু বাংলাদেশের মহাকাশ খাতে প্রবেশের প্রতীকই নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ১২ মে এই স্যাটেলাইটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়, যা বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করে।

More from the timeline

View all