**১৯৭২** জানুয়ারিতে শেখ মুজিব পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও প্রত্যাবর্তন (জানুয়ারি ১৯৭২)
🔹 গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী "অপারেশন সার্চলাইট" নামে গণহত্যা শুরু করলে, শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার করার উদ্যোগ নেয়। তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও মিয়াওয়ালি কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় ৯ মাস বিচ্ছিন্ন ও অজ্ঞাত অবস্থায় আটক ছিলেন।
🔹 মুক্তিযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক চাপ:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১), ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডে পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে। এ সময় পুরো বিশ্বে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকার পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।
🔹 মুক্তি:
পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো শেখ মুজিবের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেন। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর তাঁকে একটি বিশেষ বিমানে করে প্রথমে লন্ডনে পাঠানো হয়।
🔹 লন্ডন স্টে:
শেখ মুজিব লন্ডনে ৮ জানুয়ারি পৌঁছে সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। BBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "I am free and my country is independent."
🔹 দেশে প্রত্যাবর্তন:
১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব ভারত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে তিনি একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছান।
🔹 ঢাকায় জনসমুদ্র:
তাঁর প্রত্যাবর্তনের দিন ঢাকায় লাখো মানুষ তাঁকে বরণ করতে হাজির হয়। তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মানুষের ঢল নামে। রেসকোর্স ময়দানে ভাষণে তিনি জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
✳️ ঐ দিনের গুরুত্ব:
-
এই দিনটি বাংলাদেশে “বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস” হিসেবে পালন করা হয়।
-
শেখ মুজিবুর রহমানের ফিরে আসা নতুন স্বাধীন দেশের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
-
এটি ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতির পথে একটি বড় পদক্ষেপ।