১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম গণভিত্তিক ও প্রত্যক্ষ ভোটে হওয়া নির্বাচন ছিল। এই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন প্রকটভাবে প্রকাশ পায়। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। দলটি মোট ১৬০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১৬০টির ১৬০টিই জয় করে। জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল শেখ মুজিবের ছয় দফা ভিত্তিক, যা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ছয় দফা পূর্ব-পাকিস্তানবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল।
নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের বিজয় পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো মেনে নিতে চায়নি। ভুট্টো চাইছিলেন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে। শেখ মুজিব, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ছিলেন, তিনিই ছিলেন স্বাভাবিকভাবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত করা হয়।
এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২৫ মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের বর্বর হামলা চালায়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচন তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক এক মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরও জানতে চান কীভাবে এই নির্বাচনের ফলাফল রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছিল?