১৯৫৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনসভায় পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিটি দৃঢ়ভাবে উত্থাপন করেন। এটি ছিল বাঙালিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে তার অন্যতম বলিষ্ঠ অবস্থান।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক কেন্দ্রীয় সরকারে আধিপত্য, বাংলা ভাষার প্রতি অবজ্ঞা, শিল্পোন্নয়নে বৈষম্য এবং বাজেট বণ্টনের অসাম্য শেখ মুজিবকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তিনি উপলব্ধি করেন, একটি কেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাঙালির ন্যায্য অধিকার অর্জন সম্ভব নয়।
১৯৫৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে (কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) শেখ মুজিব তাঁর বক্তৃতায় বলেন:
"আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, পূর্ব বাংলার জনগণ এখন আর কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নয়। তারা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বাধীনতা চায়।"
এই বক্তব্যে তিনি পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানান, যা মূলত পরবর্তীতে তাঁর ছয় দফা দাবির ভিত্তি হয়ে ওঠে।
এই দাবি ছিল কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের আহ্বান নয়; এটি ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও মুক্তির এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। শেখ মুজিবের এই অবস্থান পরবর্তী সময়ে তাকে জাতির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে সুগম করে তোলে।
আপনি কি চান, এই অংশটিকে আরও ঐতিহাসিক সূত্রসহ বিস্তৃত করা হোক?