Menu
Back to timeline

*১৯৫৪-১৯৭৫* : শৈশব ও কৈশোরে বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে ওঠে

*১৯৫৪-১৯৭৫* : শৈশব ও কৈশোরে বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে ওঠে

শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, এক রাজনৈতিক পরিবারে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ঘরে। তাঁর শৈশব এবং কৈশোরকাল কেটেছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের টানাপোড়েনপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। বিশেষত ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি সরাসরি তাঁর বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে গড়ে উঠেছেন, যা তাঁকে ভবিষ্যতের একজন দৃঢ় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তৈরি করে।

১৯৫৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন, যা ছিল পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে একটি বড় ধাক্কা। এই সময়ে শেখ হাসিনা মাত্র সাত বছরের শিশু হলেও, তাঁর পারিবারিক পরিমণ্ডলে রাজনীতির যে পরিবেশ বিরাজ করত, তা তার মননে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ছোটবেলায় তিনি প্রায়ই বাবার রাজনৈতিক সভা, মিছিল ও আলোচনায় উপস্থিত থাকতেন বা ঘরের পরিবেশে তা প্রত্যক্ষ করতেন। বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, ফলে পরিবারের ওপর একটি মানসিক ও সামাজিক চাপ ছিল, যা শেখ হাসিনাকে ছোটবেলা থেকেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে শেখায়।

শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, কীভাবে তাঁর মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাবার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সমন্বয় করতেন। শেখ হাসিনা মায়ের কাছ থেকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করেন। এই সময়ে তিনি রাজনীতিকে শুধু বক্তৃতা বা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করেননি, বরং তা ছিল তাঁর জীবনের বাস্তবতা, দৈনন্দিনতা।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করলে রাজনৈতিক আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। শেখ হাসিনা তখন টিনএজার ছিলেন এবং ছয় দফা আন্দোলনের প্রভাব তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে। তিনি দেখতে পান, কীভাবে সাধারণ মানুষ অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমে আসে, কীভাবে পাকিস্তানি শাসকেরা সেই আন্দোলন দমন করতে চায়। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলে।

১৯৬৮-৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং পরবর্তী গণআন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা তাঁর বাবার কারাবন্দি অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। এই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন। তাঁর রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তখন থেকেই সক্রিয়ভাবে প্রকাশ পেতে থাকে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শেখ হাসিনা ছিলেন গৃহবন্দি অবস্থায়। তাঁর স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে তাঁর পরিবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নজরদারির মধ্যে ছিল, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।

সবশেষে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি—যেখানে তাঁর বাবা, মা, ভাইসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন—শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি তখন পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। এই শোকাবহ ঘটনাই তাঁর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল প্রেরণা হয়ে ওঠে।

এই ২১ বছরের পর্ব ছিল শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মানসিকতার ভিত্তি গঠনের সময়কাল। পরিবার, পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, আত্মবিশ্বাসী এবং নেতৃত্বদানে প্রস্তুত করে তোলে।

More from the timeline

View all