১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদার দাবিতে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় হওয়া ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি উঠেছিল, কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাভাষী মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সঞ্চার করে, কারণ বাংলা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ভাষা এবং এখানকার মানুষের জন্য এটি ছিল তাদের সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতীক।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে তার ছাত্রজীবনে এই আন্দোলনে সক্রিয় হন। তিনি তখন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। তিনি ও তার সহযাত্রী ছাত্ররা এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিভিন্ন সভা-সমিতি এবং মিছিল আয়োজন করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শহরের রাজপথে বের হয়ে, উর্দু ও বাংলার মধ্যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ জানাতে থাকে। মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য ছাত্রনেতারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে নানা ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলেন।
এসময়, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পরবর্তী সময়ে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলন আরো তীব্র হয় এবং 'ভাষা শহীদ দিবস' হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।