Menu
Back to timeline

১৪ মাসে দেশে ৪,১৭৭টি খুনের মামলা: আইন কি শুধু আওয়ামী লীগের জন্য?

১৪ মাসে দেশে ৪,১৭৭টি খুনের মামলা: আইন কি শুধু আওয়ামী লীগের জন্য?

বাংলাদেশের “শাইলক” ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পনেরো মাসের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছে।মাত্র চৌদ্দ মাসে ঢাকাতেই ডিএমপির হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে ৪৫৬টি হত্যাকাণ্ড। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৩৩টি করে খুনের মামলা হয়েছে রাজধানীতে। সারা দেশে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,১৭৭–এ। অথচ এটিই কেবল নথিভুক্ত মামলা; আরও অসংখ্য খুন মামলা পর্যন্ত হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—এই সময়ে সারা দেশে ২১৬ জন মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ৫ আগস্টে লুট হওয়া অস্ত্রের ২৫ শতাংশ এখনও উদ্ধার না হওয়ায় অপরাধ বেড়েছে। ক্ষমতায় এসে ইউনূস যেভাবে টপ ক্রিমিনালদের ছাড়া দিয়েছেন, তাতে পুলিশও আর তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

এটাই কেবল চিত্রের একটি অংশ। ইউনূসের শাসনামলে নদীতে এখন মাছের চেয়ে লাশ বেশি। নদী পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে শুধু খুলনাতেই ৫০টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। ডয়চে ভেলে বাংলা জানিয়েছে—২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৩টি লাশ নদী থেকে পাওয়া গেছে।

এত খুন, এত লাশ—কিন্তু কতজন অপরাধীকে পুলিশ খুঁজে বের করতে পেরেছে? শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের হার ২০ শতাংশের নিচে। অথচ এরই মধ্যে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করলেই লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থককে জেলে ভরা হয়েছে। মিথ্যা মামলা এখন ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর ইউনূস সমর্থকরা গ্রামের ঘরবাড়ি পর্যন্ত আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করছে। যেন আইন কেবল আওয়ামী লীগ কর্মীদের দমনের জন্যই কার্যকর।

জুলাইয়ের জঙ্গি হামলার আগে যে তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা এবং তাদের সিভিল সোসাইটি পৃষ্ঠপোষকেরা বড় বড় স্বপ্ন দেখাতেন—তারা বলতেন পরিবর্তন আসছে, বি.বি.এ পাস করা তরুণরাই দেশ চালাবে। জনগণকে বোঝাতে গানে-দীর্ঘ স্লোগানে তারা নিজেদের ‘সাহসী বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সেই “সাহসী সন্তানেরা”—যাদের শাসক হিসেবে জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউনূস ও আসিফ নজরুল—আজ মানুষ হত্যা করছে, লাশ নদী-নালা-ড্রেনে ফেলে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ দিনরাত কাঁদছে, আর সেই “বিকল্প বি.বি.এ” নেতারা বিলাসবহুল গাড়িতে ঘুরছে, নতুন ফ্ল্যাট নিচ্ছে, ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকা জমাচ্ছে।

এদিকে সিভিল সোসাইটির মুখপাত্ররা যেন হঠাৎই নিশ্চুপ। মনে হচ্ছে উপদেষ্টা পদ, সরকারি সুবিধা ও অর্থের লেনদেন তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করেছে—নইলে গত ১৫ বছরে তাদের এমন নীরবতা কখনো দেখা যায়নি।

More from the timeline

View all