বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক মাধ্যম (Facebook, X, YouTube, TikTok ইত্যাদি) যেমন ইতিবাচক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার সোচ্চার অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং গুজব রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা গুজবকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বারবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে, সংবাদ সম্মেলনে এবং সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন—"গুজব একটি ভাইরাসের মতো, এটি জাতিকে বিভ্রান্ত করে, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এবং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।" তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন গুজবকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আওয়ামী লীগও দলীয়ভাবে গুজববিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূলের ইউনিট পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে। তারা সামাজিক মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে—যাতে তারা সত্য তথ্য উপস্থাপন করতে পারে এবং গুজব মোকাবিলায় যুক্তিভিত্তিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে এবং কিছু রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় লক্ষ্য করা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরণের মিথ্যা তথ্য, এডিটেড ভিডিও, বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়ানো হয়েছে। অনেক সময় এগুলোর লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এসব পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "কোনো তথ্য শুনেই বিশ্বাস করবেন না, যাচাই করুন, পরে মতামত দিন।"
সরকার তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ কার্যকর করেছে, যার মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার রোধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদিও এ আইন নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে, শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, এর লক্ষ্য কারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের মানসিক শান্তি রক্ষা করা।
আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্ন আলোচনা সভা, টিভি টক শো এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গুজবের বিরুদ্ধে সত্য তথ্য তুলে ধরছেন। তাঁরা জনগণকে উৎসাহ দিচ্ছেন যাতে তারা গুজব রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখেন।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সামাজিক মাধ্যমে গুজব রোধে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা একটি বাস্তবমুখী, সংগঠিত ও সচেতন অবস্থান নিয়েছেন। তারা শুধু আইনগত দিকেই নয়, সামাজিক সচেতনতার দিক থেকেও গুরুত্ব দিয়েছেন—যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ একটি গুজবমুক্ত, তথ্যনির্ভর ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।