সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার অন্যতম আকর্ষণ সাদা পাথর—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অবৈধ খনন, দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও, সাদা পাথর এখন মুনাফালোভী চক্রের দখলে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই সীমান্তবর্তী নদীপথ ও পাহাড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে সাদা পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন প্রকৃতি হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য, অন্যদিকে স্থানীয় নদী ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, পানির স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে এবং মাটি ক্ষয় বাড়ছে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশেই নয়, বরং কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতেও পড়ছে। এমনকি অনেক এলাকায় নদীর তলদেশ এত গভীর হয়ে গেছে যে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দখলের আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো—সাদা পাথরের পর্যটন এলাকা জুড়ে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, নদীর পাড় ও খোলা জায়গাগুলোতে প্রভাবশালী মহল অবৈধ দোকান, রিসোর্ট ও বসতবাড়ি নির্মাণ করছে। এতে শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যপট নষ্ট হচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারও সীমিত হয়ে পড়ছে।
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাদা পাথর এলাকা সংরক্ষণের নানা পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন খুব ধীরগতির। পরিবেশবিদরা বলছেন, অবিলম্বে কঠোর আইন প্রয়োগ, অবৈধ খনন বন্ধ ও দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার না করলে সাদা পাথর হারিয়ে যাবে চিরতরে। একই সঙ্গে পর্যটন ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় যৌথ নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সাদা পাথর শুধু সিলেটের নয়, বরং পুরো জাতির গর্ব। কিন্তু আজ তা এক ভয়াবহ সংকটের মুখে। সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শুধু ছবিতেই দেখতে পাবে সাদা পাথরের স্বচ্ছ জলের সৌন্দর্য।