বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক ঐক্যমতের ফসল নয়; বরং জামায়াতের জয় নিশ্চিত করার জন্যই সব আয়োজন শেষ করে রেখেছে ফ্যাসিস্ট ইউনূস প্রশাসন।
গত এক বছরে একবারের জন্যও ইউনূস ও জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়নি। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর একের পর এক চাপ, এমনকি সেনাপ্রধান ওয়াকারের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি—সবকিছুই অগ্রাহ্য করে নির্বাচনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের পরামর্শেই রমজানের আগেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে এই অবৈধ সরকার।
প্রশাসন দখল ও নির্বাচনী খেলা
ইতোমধ্যেই জামায়াত তার সাংগঠনিক শক্তি ব্যবহার করে মাঠ গোছানো সম্পন্ন করেছে। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিগুলোতে মব চালিয়ে প্রভাব বিস্তার করেছে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে এবং আদালত থেকে শুরু করে আমলাতন্ত্র পর্যন্ত গড়ে তুলেছে এক ধরনের “ডিপ স্টেট”।
ডাকসু ও জাকসুর সাম্প্রতিক বিতর্কিত নির্বাচনকেও জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেভাবে ছাত্রসংগঠনভিত্তিক সেই নির্বাচনগুলোতে কমিটি ও প্রশাসনিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভোট কারচুপি হয়েছে, ঠিক সেভাবেই জাতীয় নির্বাচনে চলবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং।
জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার মহাযজ্ঞ
বলা বাহুল্য, এই পুরো গেমপ্ল্যানের উদ্দেশ্য একটাই—জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানো। ইতোমধ্যেই মাঠে নামানো হয়েছে তাদের নির্বাচনী কৌশল। আর ইউনূস প্রশাসন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও প্রশাসনিক মদদ দিয়ে সেটিকে সহজ করছে। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো স্বাভাবিকভাবেই এই প্রহসনমূলক নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করবে।
‘নবজন্ম’ নাকি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান?
ইউনূস বারবার “রিসেট বাটন” ও “নবজন্ম” শব্দ ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু এই নবজন্ম আসলে কিসের? একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াতের স্ক্রিপ্টেড বিজয়ের মধ্য দিয়েই কি বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানি স্বৈরতন্ত্রের কবলে ঠেলে দেওয়া হবে? যদি তাই হয়, তবে সেটি কোনো নবজন্ম নয়—বরং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনগণের ভোটাধিকার আজ এক ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে। ইউনূস-জামায়াত আঁতাতের এই সাজানো নির্বাচনের নীলনকশা সফল হলে বাংলাদেশ আবারও অতলে হারিয়ে যাবে।