Menu
Back to timeline

সংসদ বর্জনের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

সংসদ বর্জনের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংসদ বর্জন একটি পরিচিত কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর জন্য। তবে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এই কৌশলকে গণতন্ত্রবিরোধী, জনগণের প্রতি দায়িত্বহীন এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে, এবং সংসদ বর্জনকে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বলে অভিহিত করেছে।

শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে না যাওয়া জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তিনি বারবার বলেছেন, “সংসদ হচ্ছে মানুষের কথা বলার জায়গা, আইন প্রণয়নের জায়গা। এখানে না এসে রাজপথে হুমকি-ধামকি দিয়ে কিছুই অর্জন করা যায় না।” এই মনোভাব থেকেই আওয়ামী লীগ সব সময় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং বিরোধী দলগুলোকে সংসদে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকলেও, বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি প্রায়ই সংসদ বর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। শেখ হাসিনা এই প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, বিরোধী দলের সংসদে উপস্থিতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের কথা পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। বিএনপি যখন দীর্ঘদিন সংসদে অনুপস্থিত ছিল, তখন আওয়ামী লীগ তাদের জন্য সংসদে ‘আসন সংরক্ষিত’ রেখেছিল, যা রাজনৈতিক সৌজন্য ও উদারনীতির একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-মিছিলের নামে সংসদ বর্জন ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় এবং ২০১৮ সালের পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের আন্দোলন এবং সহিংস কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, “গণতন্ত্র মানে সহিংসতা নয়, জনগণের রায় মেনে নেওয়াই প্রকৃত গণতন্ত্র।”

আওয়ামী লীগ মনে করে, সংসদ বর্জনের মাধ্যমে বিরোধী দল নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে চায় এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। অথচ জনগণের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় সংসদে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই। শেখ হাসিনা এজন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান—আসুন, আমরা সবাই সংসদকে সম্মান করি, জনগণের কথা বলি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেখ হাসিনা নিজেও সংসদে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে নানান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বক্তব্য রেখেছেন এবং সংসদকে কার্যকর রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সংসদ বর্জনের রাজনীতিকে তিনি একবিংশ শতাব্দীর উপযুক্ত নয় বলে মনে করেন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সব মিলিয়ে, সংসদ বর্জনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অবস্থান শুধু একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক দর্শনের প্রতিফলন। এই দর্শনই বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

More from the timeline

View all