সংখ্যালঘু হত্যা: নয়ন আচার্যের লাশ চট্টগ্রামে—অবৈধ সরকারের নীরব প্রশ্রয়ে সংখ্যালঘু জীবন বিপন্ন
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার মিছিল থামছেই না। সর্বশেষ শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ নয়ন আচার্য (৩০)। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। কয়েক ঘণ্টা পর উত্তর পারুয়া এলাকার ডিসি সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেতে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। নিহত নয়ন আচার্য রানীরহাটের একটি সিগারেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি মৃত ননী গোপাল আচার্যের ছেলে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও, ঘটনার ধরন সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—এটি নিছক কোনো হত্যাকাণ্ড নয়; বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলমান সন্ত্রাসী পরিকল্পনার অংশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের টার্গেট করে হত্যা, মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও নির্যাতন যেন প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নয়ন আচার্যের মৃত্যু সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
রাষ্ট্রীয় নীরবতা, অপরাধীদের প্রশ্রয়
অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসা ইউনুস সরকার এসব ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছে। হত্যাকাণ্ড, লাশ উদ্ধার, সংখ্যালঘুদের উপর অব্যাহত হামলা—এসবের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বরং প্রশাসনের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করছে, সংখ্যালঘু নিধনই যেন তাদের একটি “গোপন এজেন্ডা”।
বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে, সেখানে সংখ্যালঘুরা আজ সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত। প্রতিদিন নতুন কোনো পরিবার তাদের প্রিয়জন হারাচ্ছে, নতুন কোনো মন্দির ভাঙচুরের শিকার হচ্ছে, অথচ সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে নেই কোনো প্রতিরোধ বা দায়বদ্ধতার ভাষণ।
নীরব দৃষ্টিকোণ মানে সম্মতি
নয়ন আচার্যের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়; এটি গোটা জাতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। রাষ্ট্র যদি সংখ্যালঘু নাগরিকদের জীবনরক্ষায় ব্যর্থ হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থাকে, তবে তা সরাসরি অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার সমান। আজকের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের রক্ত এতটাই অবমূল্যায়িত হয়েছে যে, হত্যার খবর পত্রিকার এক কোণে ঠাঁই পেলেও বিচার কিংবা প্রতিকার নিশ্চিত হয় না।
উপসংহার
চট্টগ্রামে নয়ন আচার্যের লাশ পাওয়া প্রমাণ করে—বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা আজ মৃত্যুভয়ে দিন কাটাচ্ছে। অবৈধ ইউনুস সরকারের নীরবতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। সংখ্যালঘু নিধন রোধে রাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি; নাহলে ইতিহাস একদিন সাক্ষ্য দেবে—এ দেশের শাসকেরাই সংখ্যালঘু হত্যার নীরব সহযোগী ছিল।