বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু অস্থিরতা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্ষমতার পালাবদল এসেছে—কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাটি, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নামে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া ফাঁসির রায়, আমাদের রাজনৈতিক যাত্রাকে এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করেছে। এই রায় শুধু একটি ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেনি—এটি আঘাত করেছে বাংলাদেশের জনগণ, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে।
এ রায়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বিচার নয়, প্রতিশোধ—আইন নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
একটি প্রশ্নবিদ্ধ আদালত, একটি পূর্বনির্ধারিত রায়
যে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে, তার গঠন, এখতিয়ার এবং প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ, মানবাধিকার সংস্থা এবং গণতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল। বলা হয় এই ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে, এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার সামান্যতম চেষ্টাও নেই।
সেখানে শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল একটাই—একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বকে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে, রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা।
রায়ের ভাষা, উপস্থাপনার ধরন, প্রমাণের ব্যবস্থাপনা—সবকিছুকে ঘিরে যে অনিয়ম দৃশ্যমান হয়েছে, তা একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয়: এটি বিচার নয়, বরং একটি সাজানো প্রতিহিংসামূলক আয়োজন।
গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক
শেখ হাসিনা শুধু একজন ব্যক্তি নন—তিনি বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায়।
তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জঙ্গিবাদ দমন থেকে আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এমন একজন নেতার বিরুদ্ধে প্রশ্নবিদ্ধ আদালতের এ ধরনের রায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে।
এ রায় কার্যত বার্তা দিচ্ছে—
বাংলাদেশে জনপ্রিয় রাজনীতিকদের লক্ষ্য করে বিদেশি প্রভাবিত কাঠামো ব্যবহার করা যাবে।
ভোটের রাজনীতিতে হারানো শত্রুকে আদালতের মাধ্যমে সরানো যাবে।
আর জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না।
যে দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নিশ্চিহ্ন করতে এমন রায় ব্যবহার করা হয়, সে দেশে গণতন্ত্র বেঁচে থাকে না।
সেখানেই শুরু হয় রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতা, ভয়, দমন, দখল ও বিশৃঙ্খলার নতুন পর্ব।
রায়ের মাধ্যমে দেশের আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, সংসদ, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার—সবকিছু উপেক্ষা করে বিদেশে বসে একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক আদালত দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু জনগণের—কোনো বিদেশি আদালতের নয়।
নেত্রীকে নয়, আঘাত করা হয়েছে জনগণের অধিকারকে
যারা মনে করেন এই রায়ে শুধু শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা ভুল করছেন।
এ রায় আঘাত করেছে কোটি কোটি মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর—
যারা তাকে ভালোবাসতেন, ভোট দিতেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে অনুসরণ করতেন।
একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মুছে দিতে গেলে, তার সঙ্গে যুক্ত জনগণের ক্ষমতাকেও মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলে।
এ রায় তারই প্রতিচ্ছবি।
প্রতিবাদই আজ একমাত্র পথ
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই সাজানো রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মানে কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায়বিচার রক্ষার লড়াই।
আজ প্রয়োজন—
-
ভয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো,
-
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা,
-
দেশের জনগণের ভোটাধিকার ও নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকারকে রক্ষা করা,
-
আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা।
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক মৃত্যুর প্রতীক।
এটি শুধুমাত্র তার লড়াই নয়—এটি আমাদের সকলের লড়াই।
গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে, বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে, এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।