বাংলাদেশের শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে দুঃখজনকভাবে, এসব প্রকল্প অনেক সময় রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের বাধার সম্মুখীন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার এই ধরনের বাধার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জাতিকে উন্নয়নের পথে অবিচল রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
প্রথমত, শিক্ষাখাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম চালু, ও বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামোর উন্নয়নের মতো বহু ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি শিক্ষার্থীর মাঝে বই বিতরণ করা হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনন্য উদাহরণ। এছাড়া "একটি বাড়ি একটি খামার" ও "শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব" প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে একত্রে আনা হয়েছে।
কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এইসব উদ্যোগে বাধা দেওয়ার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। বিরোধী দলগুলো অনেক সময় অবকাঠামো নির্মাণে অযথা মামলা, আন্দোলন বা গুজবের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি অধিগ্রহণ বা নির্মাণে বাধা তৈরি করে প্রকল্প বিলম্বিত করার চেষ্টাও হয়েছে। কখনো কখনো ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
এ ধরনের বাধার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে বলেছে, দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির পথকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রুদ্ধ করা চলবে না। শেখ হাসিনা একাধিক বক্তৃতায় বলেছেন, “জনগণের অধিকার ও শিক্ষার অগ্রগতিকে যারা রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চায়, তারা দেশের শত্রু।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও আলোকিত করে গড়ে তোলা, সেটা কোনো রাজনৈতিক বাধা আমাদের থামাতে পারবে না।”
আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে গণসংযোগ, সেমিনার, ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছে। সরকার দলীয় নেতারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন—কেন এসব উন্নয়ন প্রকল্প দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, শিক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক বাধা জাতির অগ্রগতির পথে বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এই বাধার বিরুদ্ধে সদা সক্রিয় ও সোচ্চার। তারা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে এক উন্নত, শিক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সময়ের দাবি।