রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নতুন দৃষ্টান্ত**
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ সরকার পরিচালিত ষড়যন্ত্রমূলক রায়ের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করাই অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার শুধুমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার অপরাধে বিনা ওয়ারেন্টে আটক হওয়া—বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা যে সম্পূর্ণরূপে ছিনতাই হয়েছে তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে অবৈধ আন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য একটাই—শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের সমর্থন দমন করা এবং ভয় সৃষ্টি করে গণতন্ত্রপন্থী কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়া। যেকোনো ভিন্নমত, যেকোনো প্রতিবাদ, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাধারণ পোস্ট—সবই এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চোখে “অপরাধ”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা বাঙালির মুক্তচেতনার জন্মভূমি, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হন, তখন পরিষ্কার বোঝা যায়—এই সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পরিপন্থী এক দমনমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–কর্মকর্তাদের ওপর এভাবে হামলে পড়া কেবল ব্যক্তিকে নয়, সমগ্র শিক্ষাঙ্গনকেই ভয়-শাসনে নিয়ন্ত্রণ করার নোংরা প্রয়াস।
আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—একজন নাগরিকের মতপ্রকাশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মতামত দেওয়ার অধিকার, সংবিধানের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। কিন্তু অবৈধ সরকার সেই অধিকারকে স্তব্ধ করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দমনকে একমাত্র হাতিয়ার বানিয়েছে। শেখ হাসিনা আজ শুধুমাত্র একজন নেতা নন; তিনি জনগণের আশা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক—এ কারণেই তাকে সমর্থন করা আজ অপরাধে পরিণত হয়েছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই:
-
এই আটক গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।
-
এটি রাষ্ট্রের অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের নগ্ন লঙ্ঘন।
-
এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পিষ্ট করার আরেকটি উদাহরণ।
আওয়ামী লীগ এই বেআইনি গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানায় এবং অবিলম্বে ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। পাশাপাশি আমরা দেশবাসীকে সতর্ক করছি—আজ যাকে আটক করা হলো, কাল যে কোনও সাধারণ নাগরিকই একই পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন।
গণতন্ত্রবিরোধী এই দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ, এবং দেশের মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য সব ধরনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশকে ভয় নয়—ন্যায়, সত্য ও গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতেই হবে