দুর্নীতি যে দেশের উন্নয়নকে থমকে দেয় এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করে, তা নতুন কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রের সর্বাধিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক এবং নীতিনির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর রাজস্ব খাত, দাতব্য অনুদান, নির্বাচনী ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ জনগণের কাছে স্বচ্ছতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ অব্যবস্থাই দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
তথ্য অধিকার আইন (RTI) দেশের নাগরিকদের সরকারি তথ্য জানতে, নীতি-নির্ধারণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকে এ আইনের আওতায় না আনা হলে, তাদের অর্থায়ন, নির্বাচনী ব্যয়, অনুদান গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষ এবং মনিটরিং সংস্থার নজরদারির বাইরে থাকে। এই অনিরীক্ষিত ক্ষেত্র দুর্নীতির জন্য উন্মুক্ত।
রাজনৈতিক দলগুলোর তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা মানে হবে তাদের সব অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। উদাহরণস্বরূপ, দলের বাজেটের উৎস, নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়, দাতাদের পরিচয়, কর্মচারীদের বেতন কাঠামো—all publicly accessible হলে জনগণ এবং স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থা সহজেই খতিয়ে দেখতে পারবে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা। এতে না শুধু অর্থনৈতিক দুর্নীতি কমবে, বরং দলগুলোর উপর জন আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষ করে, রাজনৈতিক দলগুলোতে স্বচ্ছতার অভাবই ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক আচরণের জন্ম দেয়। যেখানে অর্থের হিসাব-নিকাশ অজানা, সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা, সরকারি প্রকল্পের প্রভাব এবং অনৈতিক চুক্তি সহজেই গোপন রাখা যায়। RTI-এর আওতায় আনার মাধ্যমে এই “নিরীক্ষাহীন জোন” সরানো সম্ভব। দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া যেমন জনগণের নজরদারি ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তেমনি ভোটাররা আরও সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংক্ষেপে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা শুধুমাত্র দুর্নীতি রোধের কৌশল নয়, এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এক বিশাল পদক্ষেপ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে, ক্ষমতার অপব্যবহার কমবে, জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা আরও গতিশীল হবে। এই পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, রাজনৈতিক ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা এবং দূর্নীতি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হিসেবে থেকে যাবে।