Menu
Back to timeline

ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান

ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান

বর্তমান সময়ে ভুয়া সংবাদ (ফেক নিউজ) ও অপপ্রচার একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশেও এই সমস্যা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এসব ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, গুজব ও অপপ্রচার গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। একদিকে যেমন এই সংবাদগুলি জনগণকে বিভ্রান্ত করে, অন্যদিকে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। তাই তিনি বারবার সতর্ক করেছেন – কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে। তার নেতৃত্বে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে যাতে মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধ করা যায়।

আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে এই ইস্যুতে সক্রিয়। দলীয়ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীদের ব্যবহার করে তারা অপপ্রচারের জবাব দিয়ে যাচ্ছে। ‘গুজব প্রতিরোধ সেল’ গঠন করে এবং সচেতনতা মূলক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সত্য তথ্য জানাতে কাজ করছে। দলের নেতারা ঘন ঘন সংবাদ সম্মেলন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য খণ্ডন করছেন।

শেখ হাসিনা একাধিকবার সংসদে ও জনসভায় বলেছেন, ‘‘যারা ভুয়া সংবাদ তৈরি করে, তারা দেশের শত্রু। যারা অপপ্রচার ছড়ায়, তারা গণতন্ত্রের শত্রু।’’ তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে কোনো খবর প্রকাশ না করেন। একইসঙ্গে জনগণকেও অনুরোধ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে সত্যতা যাচাই করতে।

সরকারি পর্যায়ে তথ্য অধিকার আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় করা হয়েছে যাতে সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়। এছাড়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সত্য তথ্য প্রচারে সরকারি গণমাধ্যম যেমন বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার ও পিআইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনের সময় বা আন্দোলনকালে যখন রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়, তখন আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে মাঠে নেমে তা প্রতিহত করে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচন ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত গুজব প্রতিরোধে দলটির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সার্বিকভাবে বলা যায়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করেন যে একটি উন্নত, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য সত্য ও তথ্যনির্ভরতা অপরিহার্য। তাই ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান শক্ত এবং সুসংগঠিত। এই অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

More from the timeline

View all