Menu
Back to timeline

বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি ও দারিদ্র্যের গভীরতা: ড. ইউনূসের ব্যর্থ নেতৃত্বে বাংলাদেশের করুণ বাস্তবতা

বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি ও দারিদ্র্যের গভীরতা: ড. ইউনূসের ব্যর্থ নেতৃত্বে বাংলাদেশের করুণ বাস্তবতা

এক সময় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোয় সেলাই মেশিনের শব্দে মুখর ছিল বাতাস। আজ সেই শব্দ স্তব্ধ। একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হচ্ছে, হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে রাস্তায় ঘুরছে কাজের আশায়। এক সময় বাংলাদেশের গর্ব — তৈরি পোশাক শিল্প — এখন ধ্বংসের মুখে, টেনে নিচ্ছে লাখো পরিবারকে দারিদ্র্যের অতলে।

শুধু পোশাক খাত নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি অর্থনৈতিক খাতেই একই দৃশ্য। দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া, আয় স্থবির, আর কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে দ্রুত। যারা এখনো চাকরিতে আছেন, তাদের মধ্যেও ভয় কাজ করছে—পরের মাসে হয়তো তারাও বেকার হবেন। অনেকেই প্রতিদিনের খাবার কমিয়ে দিচ্ছেন, শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিচ্ছেন, ঘরবাড়ি বিক্রি করছেন শুধুমাত্র বাঁচার জন্য।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার, যারা দেশের অর্থনীতিকে দিশাহীন করে তুলেছে। নীতি-নির্ধারণে অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, এবং প্রশাসনিক অক্ষমতা মিলে আজ বাংলাদেশ এক অর্থনৈতিক দুর্যোগে পতিত হয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির পতন

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকেই শিল্পখাতে স্থবিরতা শুরু হয়। নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ–সম্পর্কিত ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের হয়রানি, তদন্ত ও চাপের মুখে পড়ে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র গত দেড় বছরে ৩৫০টির বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে এক লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানও ১৬টি কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়, যার ফলে প্রায় ৪০,০০০ শ্রমিক চাকরি হারায়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতির অস্পষ্টতা দেশের রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে, বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, আর দেশীয় বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

দ্রব্যমূল্য, সুদের হার ও বিনিয়োগ সংকট

অন্যদিকে, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। চাল, ডাল, তেল, সবজির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও টানাপোড়েনে পড়েছে। বেতন বৃদ্ধি নেই, অথচ ব্যয় দ্বিগুণ। আর্থিক খাতে সুদের হার ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে ভয় পাচ্ছেন। ছোট ও মাঝারি ব্যবসা — যেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড — একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগ নেই, ফলে নতুন কর্মসংস্থানও নেই।

এই দুষ্টচক্রে অর্থনীতি ঢলে পড়ছে গভীর মন্দায়। মুদ্রানীতি ব্যর্থ, বাজার নিয়ন্ত্রণ নেই, আর সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

মানুষের জীবন: সংকটের মানবিক মুখ

কারখানা বন্ধ মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি মানবিক বিপর্যয়। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ শিল্পাঞ্চলে হাজারো শ্রমিক মাসের পর মাস বকেয়া মজুরির অপেক্ষায়। কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ দিনমজুরে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষিত তরুণরাও হতাশ—ডিগ্রি থাকলেও চাকরি নেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে ২৭.৯ শতাংশ, আর চরম দারিদ্র্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি ভেঙে পড়ছে, সঞ্চয় শেষ, পরিবারগুলো ঋণের জালে বন্দি।

উপসংহার

ড. ইউনূসের ব্যর্থ নেতৃত্ব বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিয়েছে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগ স্থবিরতার ত্রিমুখী আঘাতে দেশ আজ গভীর সংকটে। জনগণের আস্থা হারিয়ে, নীতিগত দিকনির্দেশনা ছাড়া, এই সরকার কেবল দুর্দশা বাড়িয়েছে। এক সময়ের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ আজ বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত — আর এই পতনের দায় ইতিহাস ড. ইউনূসের ব্যর্থ নেতৃত্বের কাঁধেই তুলে দেবে।

More from the timeline

View all