Menu
Back to timeline

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের তথাকথিত প্রামাণ্যচিত্র প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মন্তব্য

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের তথাকথিত প্রামাণ্যচিত্র প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মন্তব্য

আমরা প্রথমেই গত বছরের দুঃখজনক ঘটনাবলীর জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছি। সেই সহিংসতায় যে মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে, তার জন্য আমরা ব্যথিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো পরবর্তীতে বাংলাদেশে আরও অরাজকতা, সহিংসতা ও প্রাণহানির জন্ম দিয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, সে সময় সরকারের জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলেন, তা ছিল যথোপযুক্ত, সদিচ্ছা থেকে নেওয়া এবং উদ্দেশ্য ছিল কেবল আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়া ঠেকানো। সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায্য। বিবিসি’র এই প্রতিবেদন শুধু পক্ষপাতদুষ্ট নয়, বরং সময়োপযোগিতার দিক থেকেও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

বাংলাদেশে এই ঘটনাগুলো বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। এমন প্রেক্ষাপটে বিবিসি’র এই প্রামাণ্যচিত্র প্রচার বিচারকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যে যদি একই পরিস্থিতি থাকত, তবে নিশ্চয়ই বিবিসি এ ধরনের পদক্ষেপ নিত না।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত কথিত অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। তবুও তার ভেতরের বক্তব্যে কোথাও বেআইনি বলপ্রয়োগের নির্দেশ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করেছেন। জাতীয় নেতাদের প্রায়ই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তবে আমরা নিশ্চিত যে তার সব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইন মেনেই হয়েছে।

বিবিসি তাদের তথাকথিত অনুসন্ধানে কোথাও প্রমাণ করতে পারেনি যে রাজনৈতিক নেতৃত্বই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। মাঠপর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সঠিক নিয়মে কাজ করেছে। তবে পরিস্থিতি ছিল দ্রুত পরিবর্তনশীল ও উত্তেজনাপূর্ণ, ফলে কিছু জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিয়েছিল। সরকার কখনোই এসব আড়াল করেনি; বরং আগস্টের শুরুতেই একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা বিশ্বে স্বীকৃত। তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি অনুমোদন করেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার নজির স্থাপন করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিবিসি প্রামাণ্যচিত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করেছে। জাত্রাবাড়ী থানার ঘটনায় গুলিবর্ষণের সময় শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পথে ছিলেন এবং পুলিশের কমান্ড চেইন ভেঙে পড়েছিল। সৈন্যরা সরে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা থানায় হামলা চালালে পুলিশ আতঙ্কে গুলি চালায়—যা আত্মরক্ষার তাগিদেই ঘটেছিল। অথচ এসব প্রেক্ষাপট বিবিসি উপস্থাপন করেনি।

প্রতিবেদনে পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা, অগ্নিসংযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নে হামলা, কিংবা জাতীয় সংসদ ভবন ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের ওপর আক্রমণের কথাও উল্লেখ নেই। তাছাড়া, সরকার পতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর দমন-নিপীড়নের কথাও তারা উপেক্ষা করেছে।

আমরা আবারও বলছি—আওয়ামী লীগ একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তকে স্বাগত জানায়। শুধু জুলাই-আগস্টের ঘটনাই নয়, ১৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কর্মী, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলোও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

More from the timeline

View all