Menu
Back to timeline

বিজয়ীর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়

বিজয়ীর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়

তিনি সেই নারী, যিনি একদিন বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আর বাংলাদেশ তাঁর চোখ দিয়েই স্বপ্ন দেখেছিল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভেবেছিল—১৯৭১-এর স্বপ্ন তারা চিরতরে কবর দিতে পেরেছে। কিন্তু ইতিহাসের চাকা ঘুরে দাঁড়ায় তাঁরই নেতৃত্বে—বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে অন্ধকার ভেদ করে বাংলাদেশ নতুনভাবে জেগে ওঠে।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। দেশের প্রতিটি অর্থবহ সাফল্য—অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক মর্যাদা, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ—সবই হয়েছে তাঁর হাত ধরে।

১৯৮১ সালে, যখন স্বৈরশাসনের ভারে দেশ নিস্তেজ, তখন তিনি নির্বিকার সাহসে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তখন থেকেই তাঁর পথচলা এক নিরলস সংগ্রামের, এক অমর ত্যাগের। গণতন্ত্রের ভিত্তি তিনি গড়েছেন নিজের রক্ত, ঘাম আর অটল সাহস দিয়ে।

কিন্তু আজ সেই ভিত্তিই আবার আঘাতপ্রাপ্ত। তিনি আজ নির্বাসিত।

ইতিহাস সাক্ষী—মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা ১৯৭১-এ পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু তাদের প্রতিশোধস্পৃহা থামেনি। ১৯৭৫-এ তারা আঘাত হানে। পরবর্তীকালে বারবার ষড়যন্ত্র করেছে। আজ আবার ড. ইউনুস নিজের “রিসেট বোতাম” টিপে বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার খেলায় নেমেছেন।

কিন্তু তিনিই তো সেই নেত্রী, যিনি অন্ধকার থেকে দেশকে আলোয় এনেছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে বসিয়েছেন। এই ষড়যন্ত্রও টিকবে না। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না।

স্বাধীনতার শত্রুরা শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগকে কখনো মেনে নিতে পারেনি। এ কারণেই তাঁকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে—চট্টগ্রামে, কোটালীপাড়ায়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াল গ্রেনেড হামলায়। কিন্তু প্রতিবারই মানুষের ভালোবাসা তাঁকে রক্ষা করেছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ আঘাত এসেছে ২০২৪ সালের আগস্টে।

তবুও তিনি অটল থেকেছেন। মিথ্যা মামলা, কারাগারের দেয়াল কিংবা সামরিক শাসকের জুলুম—কোনো কিছুই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। “১/১১” তে তাঁর দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করেছে—যে ষড়যন্ত্র যতই নিখুঁত হোক, তা শেষ পর্যন্ত ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়।

তিনি সত্যিই অমরতার কন্যা—সেবার আদর্শে পথচলা, রবীন্দ্রচিন্তার মানবতার শেকড়ে দাঁড়ানো। তিনি নিজের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন জাতির ভবিষ্যতের জন্য। পরিবার-স্বজনের স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে তিনি হেঁটেছেন মানুষের সঙ্গে। জনগণও তাঁকে দিয়েছে অটুট আস্থা।

আজ আবারও তিনি বড় ষড়যন্ত্রের নিশানায়। কারণ তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বিক্রি করেননি, চট্টগ্রাম বন্দর হস্তান্তর করেননি, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেননি। সেই অস্বীকৃতিই আজ তাঁকে শত্রুর চোখে অপরাধী করেছে। আর ইউনুস সেই অস্বীকৃত সম্পদগুলো গোপন চুক্তিতে বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিচ্ছেন।

কিন্তু একটি সত্য চিরকাল অটল থাকবে—যতদিন শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন, যতদিন বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা শ্বাস নেয়, বাংলাদেশ বিক্রি হবে না। দেশের এক ইঞ্চি মাটিও বিদেশি শক্তির হাতে সোপর্দ করা যাবে না।

তিনি ফিরবেন। মাটির টান, মানুষের ভালোবাসা তাঁকে ফিরিয়ে আনবেই। আর ষড়যন্ত্রকারীরাই পালাবে।

তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির স্থপতি, জনগণের আশার প্রতিমূর্তি, চিরন্তন আস্থার প্রতীক। তাঁর জন্মদিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করি। দীর্ঘ হোক তাঁর আয়ু। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

More from the timeline

View all