বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস রাজনীতির ইতিহাস নতুন কিছু নয়। বারবার এই জোটের পক্ষ থেকে জনগণের জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং স্থিতিশীলতার ওপর আঘাত এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু গণতন্ত্রকে ব্যাহত করে না, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই এসব সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে এদের প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে যাচ্ছেন।
বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তারা যেভাবে পেট্রোল বোমা ছুড়ে সাধারণ মানুষ, চালক, শ্রমিক, এমনকি স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের হতাহত করেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। নির্বাচনী প্রতিবাদ বা দাবিদাওয়ার নামে যেভাবে তারা সারা দেশে সহিংসতা চালিয়েছে, তা গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় শান্তিপূর্ণ ও আইনগতভাবে প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, “গণতন্ত্র মানে ধ্বংস নয়, গণতন্ত্র মানে জনগণের মত প্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।” তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে সহিংস রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যানবাহন এবং নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করে বিএনপি-জামায়াত প্রমাণ করেছে যে তাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। তারা জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলার পর নির্বাচন বর্জন ও আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালিয়ে পরিস্থিতিকে অরাজক করার অপচেষ্টা করেছে। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রশাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করেছে।
আওয়ামী লীগ সবসময়ই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন, “জনগণই আমাদের শক্তি। তারা যদি আমাদের রায় না দেয়, আমরা ক্ষমতায় থাকার প্রশ্নই উঠবে না।” এই বিশ্বাস থেকেই আওয়ামী লীগ সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে অটল থেকেছে।
সাম্প্রতিক সময়েও যখন বিএনপি-জামায়াত নানা উসকানিমূলক বক্তব্য ও সহিংস কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তখন আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু সহিংসতা কখনোই বরদাস্ত করা হবে না।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বিএনপি-জামায়াতের সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় এবং মানবিক। শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করে সবসময় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।