বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ: ৭৭ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, গৌরব ও অর্জনের দীপ্ত যাত্রা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়; এটি বাঙালির অধিকার আদায়, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র নির্মাণের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময়ের দাবি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দলটি। সেই সূচনা থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পেছনে আওয়ামী লীগের রয়েছে অনন্য অবদান।
দীর্ঘ ৭৭ বছরের পথচলায় অসংখ্য ত্যাগ, সংগ্রাম, নির্যাতন ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে দলটি বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রতিটি অধ্যায়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
আজ ২৩ জুন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শ্রদ্ধা ও স্মরণ কর্মসূচি
- ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন।
- বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যার শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও দোয়া মাহফিল।
- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মোনাজাত।
- দেশের বিভিন্ন মসজিদে জোহরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া এবং মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় প্রার্থনা।
- অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি।
সাংগঠনিক কর্মসূচি
- প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ঢাকাসহ সারা দেশে জাতীয় ও দলীয় পতাকা বহন করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
- আওয়ামী লীগের সকল স্তরের সাংগঠনিক ইউনিট ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন।
গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহ দেশব্যাপী পোস্টার প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং দেয়াললেখন কর্মসূচি পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিন্ন প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে দিবসটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন।
কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা
২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এতে অংশগ্রহণ করবেন এবং সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
সহযোগী সংগঠনগুলোর আলোচনা সভা (২৩–৩০ জুন)
শেখ হাসিনার সম্মতিসাপেক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে—
- ২৪ জুন: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা
- ২৫ জুন: বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা
- ২৬ জুন: বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা
- ২৭ জুন: বাংলাদেশ কৃষক লীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা
- ২৮ জুন: জাতীয় শ্রমিক লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগের আলোচনা সভা
- ২৯ জুন: যুব মহিলা লীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা
- ৩০ জুন: মহিলা আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা
১ জুলাই: দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি
দলীয় ঘোষণায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়ের প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্রনির্মাণ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের ইতিহাস কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস নয়; এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের সংগ্রামের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।