বাংলাদেশ আজ তার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সময় পার করছে। আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা করা স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত ম্লান হয়ে গেছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতি স্থবির এবং সাধারণ মানুষ ক্রমেই হতাশার মুখে পড়ছে। প্রতিটি মাসে নতুন করে শোনা যায় পরিবারগুলো জীবনযুদ্ধে সংগ্রাম করছে, শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে, আর ছোট ব্যবসাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস, বিনিয়োগে দশ বছরের ন্যূনতম স্তর
বেকারত্ব বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি stubbornly উচ্চ, এবং মজুরি জীবনের ব্যয় সামলাতে পারছে না। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকরা তাদের দক্ষতার সাথে মিলিয়ে চাকরি পাচ্ছে না। দেশের কারখানা ও বাজারে হতাশা স্পষ্ট। একসময় সমৃদ্ধ শিল্প এখন তার অর্ধেক ক্ষমতায় চলছে, হাজার হাজার শ্রমিক ঘরে পাঠানো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়িক নেতারা দেখিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে দেশের আস্থা কমে গেছে। তাঁর প্রশাসনের ব্যর্থতা—অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা—সংকটকে আরও গভীর করেছে। যে সময়টা তার অস্থায়ী সরকারের একটি পর্যায় মনে করা হতো, এখন তা অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাবনার ক্ষয়কাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম
অফিসিয়াল স্থিতিশীলতার দাবির বিপরীতে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষকে ক্রমেই ধ্বংস করছে। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৩৬%, যা ইতিমধ্যেই দুর্বল অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। চাল, ডাল, রান্নার তেল, সবজি সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য খরচও বাড়ছে। পরিবারগুলো খাবার কমাচ্ছে, পুষ্টি হ্রাস করছে, জরুরি চিকিৎসা বিল পরবর্তী সময়ে রেখে দিচ্ছে।
একটি সাধারণ ঢাকা পরিবার, যা আগে মাসে ৩০,০০০ টাকা খরচ করত, এখন একই জীবনধারার জন্য ৩৩,০০০ টাকা ব্যয় করছে। আয় কিন্তু সমান রয়ে গেছে না। মানুষ ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছে।
ব্যাংকিং সেক্টরের সংকট
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর আজ এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বলগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে নন-পারফর্মিং লোন ২০.২%। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি এবং দীর্ঘদিনের দোষী ব্যবস্থাপনা এই অবনতির মূল। ইউনুসের প্রভাব ও “সংস্কারমূলক” নীতি ব্যাংকিং শৃঙ্খলা বিপন্ন করেছে, ঋণ পুনঃনির্ধারণ ও রাজনৈতিক পক্ষপাতে ব্যাংকগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, আজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থবির, ঋণসংক্রান্ত অস্থিরতা প্রবল এবং আমানতকারীরা নিরাপত্তাহীন।
বিনিয়োগ স্থবিরতা ও বেসরকারি খাতের সংগ্রাম
বেসরকারি বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে মাত্র ২৯.৩৮% জিডিপি, যা দশ বছরের সর্বনিম্ন। উচ্চ সুদের হার, শক্তি সংকট, শ্রম আইন সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উদ্যোক্তাদের পিছিয়ে দিয়েছে। শিল্পকারখানা হ্রাস পাচ্ছে, নতুন প্রকল্প স্থগিত, এবং বিনিয়োগের আস্থা হারাচ্ছে।
জিডিপি বৃদ্ধি ও শ্রমবাজার সংকট
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি বৃদ্ধি মাত্র ৩.৯৭%, যা গত ২৫ বছরে COVID-প্রভাবিত সময় বাদে সবচেয়ে কম। কৃষি খাত ১.৭৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, শিল্প ও সেবা খাত স্থবির। শ্রমবাজারে ৬০,০০০ জন চাকরি হারিয়েছে, বিশেষ করে নারীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত।
ইউনুসের নীতি ব্যর্থতার প্রভাব
ইউনুসের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও নীতি পরিচালনার ব্যর্থতার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, ব্যাংকিং সেক্টরের দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং শ্রমবাজার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই নীতিগুলো শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেছে, সাধারণ জনগণকে তাদের ভোগান্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে। অবিলম্বে, স্বচ্ছ এবং দৃঢ় পদক্ষেপ ছাড়া দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতার নিম্নগামী প্রবণতা আরও গভীর হবে। ইউনুসের ভুল নীতি ও দৃষ্টিভ্রষ্ট নেতৃত্বের প্রভাব সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য এখনই সময় এসেছে জবাবদিহিতার।