Menu
Back to timeline

বাংলাদেশকে উগ্রবাদের কবল থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাজীব ওয়াজেদের আহ্বান

বাংলাদেশকে উগ্রবাদের কবল থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাজীব ওয়াজেদের আহ্বান

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং উগ্র ইসলামপন্থার অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সাজীব ওয়াজেদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি “প্রহসনমূলক নির্বাচন” হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে একটি দুর্বল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা বিদেশি শক্তির প্রতি অনুগত থাকবে এবং ইতোমধ্যেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়াবে।

গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাচনী বৈষম্য

সাজীব ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ওপর অগণতান্ত্রিক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অন্যান্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে কার্যত দূরে রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষের শক্তিগুলোর সুবিধা নিশ্চিত করতে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একতরফা প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রত্যেকটি মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে।

কোটা আন্দোলন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট

সাজীব ওয়াজেদ বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিটি যৌক্তিক ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকার আগেই কোটাব্যবস্থা বাতিল করেছিল। তবে তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনে উগ্রপন্থী ও আন্তর্জাতিক শক্তি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতিকে সহিংস করে তোলে। তাঁর মতে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ হলেও পরবর্তীতে সশস্ত্র গোষ্ঠী এতে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় নিহত প্রত্যেকটি মানুষই দুঃখজনক, এবং আওয়ামী লীগ সরকার কখনো সহিংসতা চায়নি।

জঙ্গি মুক্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

সাজীব ওয়াজেদের দাবি, বর্তমান অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বিভিন্ন দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়েছে, যাদের মধ্যে হলি আর্টিজান হামলা এবং ব্লগার হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছে। তাঁর মতে, এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল দলগুলোকে নিষিদ্ধ রেখে নির্বাচন আয়োজন করলে সেটি প্রকৃত নির্বাচন হবে না। তাঁর মতে, বর্তমানে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংবিধানে উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও গণভোট আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অতীতে সামরিক শাসকদের কৌশলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ব্যবস্থাকে দুর্বল করে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

ডাক ভোট ও কারচুপির আশঙ্কা

সাজীব ওয়াজেদ বলেন, প্রথমবারের মতো ডাক ভোট চালু করার ফলে ভোট কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যেই বিদেশে থাকা ভোটারদের ডাক ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

উগ্রবাদের উত্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাঁর মতে, এই শক্তিগুলো শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

সাজীব ওয়াজেদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও প্রগতির প্রতীক এবং দলটি দেশের জনগণের একটি বড় অংশের সমর্থন এখনও ধরে রেখেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উগ্রবাদের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

More from the timeline

View all