১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর অধ্যায় শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা জাতির ওপরই এক গভীর আঘাত হানে। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না হওয়া এবং তাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে থাকার ঘটনাগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে লজ্জার অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সব সময়ই সরব ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বিচারের দাবি নিয়ে আওয়ামী লীগ বহু বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকেই বারবার এই বিচারের দাবি তোলেন। তিনি জাতিকে আশ্বাস দেন, ক্ষমতায় আসলে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু ১৯৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো — বিশেষ করে জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার — এই বিচারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা খুনিদের বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত, সচিব ও সরকারি কর্মকর্তার পদে নিয়োগ দেয়, এমনকি “ইন্দেমনিটি অধ্যাদেশ” জারি করে খুনিদের বিচার থেকে রক্ষা করে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। “ইন্দেমনিটি আইন” বাতিল করে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চালু করা হয়। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু এখনও আরও কয়েকজন খুনি বিদেশে পলাতক রয়েছেন, যাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করা যায়নি।
এই অসমাপ্ত বিচারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা আজও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও আন্তর্জাতিক ফোরামে তারা বারবার এই খুনিদের ফেরত আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। শেখ হাসিনা নিজে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অন্যান্য দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা এই পলাতক খুনিদের বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ করে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, শুধু দণ্ড কার্যকর করলেই ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ হবে না, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে খুনিদের প্রত্যেককেই দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, বিচারকাজ অসম্পূর্ণ থাকলে ইতিহাসের প্রতি অবিচার হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে, যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা হয়, তখন আওয়ামী লীগ এই ইস্যুটি সামনে তুলে ধরে। দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম, সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়, যাতে আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
সবশেষে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর না হওয়া শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি জাতীয় নৈতিকতার প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা এই লড়াইকে ন্যায়বিচারের লড়াই হিসেবে দেখে থাকেন এবং যতদিন না সব খুনি বিচারের সম্মুখীন হয়, তাদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।