Menu
Back to timeline

প্রহসনের বিচার: ন্যায়বিচারের মুখোশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ

প্রহসনের বিচার: ন্যায়বিচারের মুখোশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ সরকার আজ এমন এক বিচারিক নাটক মঞ্চস্থ করছে, যা ন্যায়বিচারের নামে প্রকৃতপক্ষে একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রহসন। দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে, তা কোনো স্বাধীন আদালতের প্রক্রিয়া নয়—এটি এক “ক্যাঙ্গারু কোর্ট”, অর্থাৎ সাজানো নাটক, যেখানে অভিযোগ মিথ্যা, সাক্ষ্য সাজানো, আর রায় আগেই নির্ধারিত।

এই বিচারের লক্ষ্য ন্যায় নয়, প্রতিশোধ।
এটি কেবল একজন নেত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বরং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, জনগণের আস্থা, এবং সংবিধানিক গণতন্ত্রের ভিত্তিকেও বিপন্ন করছে। আদালত পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মঞ্চে, যেখানে বিচার নয়, ভয় প্রদর্শনই প্রধান উদ্দেশ্য—যাতে ভিন্নমত, সাহসী নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনা চুপ করিয়ে দেওয়া যায়।

অভিযোগের অ absurdoতা, বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষপাত, এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন আজ এই বিচারকে উন্মোচন করেছে তার আসল রূপে—একটি রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত নাটক, যার উদ্দেশ্য শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানকে ধ্বংস করা।


শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে সাজানো মামলা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

এই বিচার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি এসেছে একটি অবৈধ, অনির্বাচিত ও প্রভাবিত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা থেকে। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই প্রশাসন ক্ষমতা অর্জন করেছে জনগণের ভোটে নয়, বরং বিদেশি প্রভাব, بيرোক্রেটিক চাপে ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জোটের সহযোগিতায়।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—
শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়া, সেই নেত্রীকে যিনি একমাত্র বৈধতা ও জনসমর্থনের প্রতীক, এবং যিনি এই অবৈধ শাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুই হলো এই “বিচার।”

অভিযোগগুলো এতটাই হাস্যকর যে তা নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা প্রমাণ করে। কখনো বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনা নাকি বিটিভি ভবনে অগ্নিসংযোগে নির্দেশ দিয়েছেন, আবার কখনো দাবি করা হচ্ছে, তিনি ঢাকা মেট্রোরেল ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছেন বা ৪০০ মানুষ হত্যার উসকানি দিয়েছেন।

কিন্তু মামলার নথিপত্র নিজেই প্রমাণ করছে—
অভিযোগের তথাকথিত “ভিকটিমদের” অনেকেই জীবিত, প্রমাণ অনুপস্থিত, আর ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এটি এমন এক মামলা, যার উদ্দেশ্য দোষ প্রমাণ নয়, বরং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।


দুর্নীতিগ্রস্ত ট্রাইব্যুনাল ও রাজনৈতিক বিচারব্যবস্থা

যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) একসময় মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে ন্যায়বিচারের প্রতীক ছিল, সেটিকেই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে।

এই ট্রাইব্যুনালের প্রধান, ব্যারিস্টার শফিউল আলম মাহমুদ, একজন সাবেক বিএনপি ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ, যার কোনো বিচারিক অভিজ্ঞতা নেই। হঠাৎ নিয়োগের পেছনে লক্ষ্য একটাই—একটি “অনুগত” বিচারক তৈরি করা, যে রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করবে।

আজ এই ট্রাইব্যুনাল আইনের আদালত নয়, বরং প্রহসনের মঞ্চ।
এখানে প্রমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তাজুলের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অযাচিত বক্তৃতা, সাক্ষীদের জবানবন্দি সাজানো, আর প্রতিরক্ষার আবেদনগুলো আগেই প্রত্যাখ্যাত।

বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের (ICCPR) বিধান অনুযায়ী প্রতিটি অভিযুক্তের সুবিচারের অধিকার আছে, কিন্তু এই আদালতে সেই অধিকার পুরোপুরি অস্বীকৃত।
ক্রস-এক্সামিনেশন সীমিত, সাক্ষী বাছাই একতরফা, আর রায় আগেই লেখা—এ যেন এক নাটক, যার পরিসমাপ্তি পূর্বনির্ধারিত।


আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি

এই অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সংবিধানবহির্ভূত, জনগণের অনুমোদনবিহীন, সংসদের অনুমোদনহীন।
তাদের দ্বারা গঠিত কোনো আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়া “void ab initio”—অর্থাৎ শুরু থেকেই অবৈধ।

বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে—শুধুমাত্র একটি নির্বাচিত সরকার বিচারব্যবস্থার কাঠামো তৈরি ও তদারকি করতে পারে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনুসের এই প্রশাসন সেই আইনি ক্ষমতা ছাড়াই বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যন্ত্রে পরিণত করেছে।

এই বেআইনি ক্ষমতার অপব্যবহার এখন আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আওয়াজ

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, আইনজীবী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই বিচারকে “ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের দৃষ্টান্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লন্ডনভিত্তিক একটি আইন সংস্থা ইতিমধ্যে জাতিসংঘে আবেদন জানিয়েছে, এই প্রহসনমূলক বিচার বন্ধ করার জন্য, কারণ এটি আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি (ICCPR)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম—দ্য উইক, দ্য ওয়াল, ও অন্যান্য প্রকাশনা—এই বিচারকে স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক নাটক হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে চুপ করানো এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে উল্টে দেওয়া।


ন্যায়বিচারের মুখোশে এক বিশ্বাসঘাতকতা

আজ বাংলাদেশের আদালতে যা ঘটছে, তা ন্যায়বিচারের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রতিটি শুনানি, প্রতিটি সাজানো সাক্ষ্য, প্রতিটি নীরব প্রতিরোধ—সবই প্রমাণ করছে যে এটি বিচার নয়, একটি রাজনৈতিক হত্যা প্রচেষ্টা।

এই আদালত আর ন্যায়ের প্রতীক নয়, এটি হয়ে উঠেছে প্রহসনের প্রতীক—
যেখানে সত্যকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে, আর মিথ্যা পরিণত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নীতিতে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করছে না তাঁর অপরাধ, বরং উন্মোচন করছে সেই নৈতিক দেউলিয়াত্ব ও ক্ষমতার লালসা, যা আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গ্রাস করতে চায়।

একদিন ইতিহাস এই প্রহসনকে বিচার করবে—
এবং তখন স্পষ্ট হবে, এই “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” আসলে ছিল ন্যায়বিচারের নয়, বিশ্বাসঘাতকতার আদালত।

More from the timeline

View all