Menu
Back to timeline

প্রতারণা ও প্রহসনের নির্বাচন: গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনার বিবৃতি

প্রতারণা ও প্রহসনের নির্বাচন: গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনার বিবৃতি

১২ ফেব্রুয়ারি জাতি প্রত্যক্ষ করেছে এক পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণা ও প্রহসনের নির্বাচন—যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এটি জনগণের রায়ের নির্বাচন ছিল না; বরং ছিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় শিল্পোৎপাদনের মতো সংখ্যা সাজিয়ে ফলাফল দাঁড় করানোর এক মহড়া।

এই নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১২৭,৭১১,৭৯৩ জন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং চলে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু ভোটগ্রহণের পদ্ধতি ও ধাপে ধাপে প্রকাশিত ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের প্রথম ব্রিফিং অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত—প্রথম ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে—ভোট পড়েছে ১৪.৯৬%, অর্থাৎ ১ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৬৮৪টি ব্যালট। গড়ে প্রতি মিনিটে ৯০,৯৭৯টি ভোট। পরবর্তী ব্রিফিংয়ে দুপুর ১২টায় উপস্থিতি দেখানো হয় ৩২.৮৮%। অর্থাৎ মাত্র এক ঘণ্টায় বেড়েছে ১৭.৯২%—২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৫০টি ভোট। গড়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৯টি ভোট! প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় যেখানে ঘণ্টাপ্রতি উপস্থিতি ছিল ৪.২৭%, সেখানে পরবর্তী এক ঘণ্টায় তা লাফিয়ে ১৭.৯২%—এ এক অস্বাভাবিক উল্লম্ফন।

দেশে মোট ৩২,৭৮৯টি ভোটকেন্দ্র সক্রিয় থাকলে, এই হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেন্দ্রে প্রতি মিনিটে গড়ে ১১.৬৩টি ভোট পড়তে হতো—অর্থাৎ প্রতি ৫.১৬ সেকেন্ডে একটি ভোট। বাস্তবে এটি কার্যত অসম্ভব।

বাংলাদেশের ভোটের ইতিহাস বলে, সাধারণত সকালেই উপস্থিতি বেশি থাকে। অথচ সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র ১৪.৯৬%, তারপর হঠাৎ এক ঘণ্টায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি—এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

দুপুর ২টায় উপস্থিতি দেখানো হয় ৪৭.৯১%—অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে বেড়েছে ১৫.০৩%, যা ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮৩টি ভোট, প্রতি মিনিটে প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৮টি। শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ঘোষণা করা হয় ৫৯.৪৪%। অর্থাৎ শেষ আড়াই ঘণ্টায় যুক্ত হয়েছে আরও ১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৭৭০টি ভোট—প্রতি মিনিটে ৯৮,১৫২টি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, অনেক কেন্দ্রে একটি ভোট দিতে সময় লেগেছে ১.৫ থেকে ৩ মিনিট। সে প্রেক্ষাপটে সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ভোট বৃদ্ধির হার ছিল অস্বাভাবিক।

সারা দেশে ফাঁকা কেন্দ্র, নিষ্ক্রিয় বুথ, ভোটারশূন্য পরিবেশের চিত্রের সঙ্গে কমিশনের প্রায় ৬০% উপস্থিতির দাবি সাংঘর্ষিক। প্রায় ৮৬ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৫ হাজার (৩%)। আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ (৭%)। এই বাস্তবতায় ৬০% উপস্থিতির দাবি হাস্যকর।

রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে “হ্যাঁ” ভোটের প্রচার চালানো হয়েছে। ব্যালটে “হ্যাঁ”-র পাশে টিক চিহ্ন এবং “না”-র পাশে ক্রস চিহ্ন রাখা ছিল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল। ফলাফল শিটে প্রিজাইডিং অফিসার ছাড়া অন্য কারও স্বাক্ষর না থাকা স্বচ্ছতার ঘাটতি নির্দেশ করে।

জাতীয় নির্বাচনের আসনভিত্তিক ফল ১৮ ঘণ্টায় ঘোষণা হলেও একই দিনের গণভোটের আসনভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হয়নি; প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সার্বিক ফল দেওয়া হয়। এতে জনমনে কারচুপির ধারণা দৃঢ় হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তথ্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, নাকি পূর্বনির্ধারিত ফলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে?

১১ ফেব্রুয়ারি রাতে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, আগাম ব্যালট সিল মারা, ফলাফল শিটে আগাম স্বাক্ষর, জাল ভোট, গণহারে ব্যালট উদ্ধার—এসব অভিযোগ এসেছে। নির্বাচন দিবসেও সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট ছিনতাই, জোরপূর্বক ভোট, গণনায় অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে।

অতীতে Bangladesh Nationalist Party স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করেছে; কিন্তু Bangladesh Awami League-কে এ নির্বাচনে প্রতীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি—অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ও বহিষ্কৃত করা হয়েছে। তবুও আওয়ামী লীগ সহিংসতার ডাক দেয়নি; শান্তিপূর্ণ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। জনগণ সাড়া দিয়েছে ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে। তাই অবৈধ সরকারের প্রধান Muhammad Yunus-এর প্রশাসনকে সংখ্যার কারসাজির আশ্রয় নিতে হয়েছে।

এই একতরফা, প্রহসনের নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তাই ১৮ কোটি মানুষের দাবি—ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল; দায়ীদের পদত্যাগ; মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সব রাজনৈতিক বন্দি, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীর মুক্তি; আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

More from the timeline

View all