Menu
Back to timeline

পার্বত্য চট্টগ্রামে কত জমি দখল হয়েছে, প্রকাশ করুন

পার্বত্য চট্টগ্রামে কত জমি দখল হয়েছে, প্রকাশ করুন

পার্বত্য চট্টগ্রামে এযাবৎ কত জমি দখল হয়েছে এবং কোন সরকারের আমলে কতটুকু অবৈধভাবে লিজ বা দখল হয়েছে—তার সঠিক হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি উঠেছে। বক্তারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ৩০ বছর অতিক্রম হলেও ভূমি সমস্যার সমাধান হয়নি। একের পর এক সরকার এসেছে, কিন্তু কেউই এ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ভূমি কমিশন গঠন হলেও সেটি কার্যকর করা যায়নি।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি উঠে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। সভার শিরোনাম ছিল— “অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছর: পাহাড়ের ভূমি সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ভূমি কমিশনকে সক্রিয়করণ”।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট মূলত রাজনৈতিক। এখানকার মানুষ বাড়তি কিছু চায় না, শুধু নাগরিক হিসেবে মর্যাদা চায়। রাজা–প্রজার সম্পর্কের বাইরে এসে তারা সমঅধিকার প্রত্যাশা করেছে। কিন্তু সরকারগুলো সেই প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, “জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”

এএলআরডি–এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল বৈষম্য দূর করা। ভূমি অধিকার থেকে শুরু করে শিক্ষা ও লিঙ্গবৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সমতা আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পাহাড়ের ভূমি সমস্যার দিকে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। গণতন্ত্রের লড়াই পাহাড়কে বাদ দিয়ে হতে পারে না, কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, “সরকারগুলো শুধুই আশ্বাস দিয়েছে, বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এর ফলে ভূমি সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। আমাদের দাবি—যে সরকারের আমলে যত ভূমি দখল বা অবৈধভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। কত সংখ্যক সেটলারকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাও জনগণের সামনে আনতে হবে।”

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে বৈষম্যের বড় প্রতিচ্ছবি। সেখানে ন্যায়বিচার নেই, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করা হচ্ছে।”

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “আইন হয়, বিধিমালা হয় না। আবার বিধিমালা হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না। মূল প্রশ্ন হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা আসলেই এই বিষয়গুলো সমাধান করতে চায় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয় নেই। আগামী ছয় মাসেও থাকবে বলে মনে হয় না। আসলে সমস্যাকে জিইয়ে রাখা হচ্ছে। অসাধারণ গণ-অভ্যুত্থানের পরও শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি।”

সভায় আলোচনার ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। সেখানে তিনি বেশ কিছু করণীয় তুলে ধরেন—

  • দ্রুত ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

  • কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত জনবল, তহবিল ও সম্পদ বরাদ্দ

  • ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদনপত্র প্রণয়ন ও দাখিলে সহায়তা

  • প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে সচেতন করা

  • ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য আইনি, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, আদিবাসী অধিকারকর্মী মেইনখেন প্রমীলা প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সদস্য দীপায়ন খীসা।

বক্তারা একবাক্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে ভূমি কমিশনকে সক্রিয় ও কার্যকর করার পাশাপাশি দখলকৃত জমির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

More from the timeline

View all