সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর লুটপাটের ঘটনাকে ঘিরে দায় অন্যত্র চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাদের মতে, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে সামনে আনা হচ্ছে, যা মূল সমস্যার সমাধান নয় বরং বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা।
আওয়ামী লীগ মনে করে, ভোলাগঞ্জের মতো অর্থকরী প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা ও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততায় পাথর লুটের ঘটনা ঘটলেও এখন দায় ঘুরিয়ে অন্যত্র চাপানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
দলীয় সূত্র জানায়, মুফতি ফয়জুল করীম অতীতে ভোলাগঞ্জে ‘নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব পাথর উত্তোলন’ নিয়ে কিছু মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বক্তব্য কাটছাঁট করে প্রচার করা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। প্রকৃতপক্ষে, প্রশাসনের গাফিলতি এবং বিএনপি নেতাদের সরাসরি মদদ ছাড়া এ ধরনের লুটপাট সম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগ মনে করে, প্রশাসন যদি সময়মতো পদক্ষেপ নিতো, তাহলে পাথর লুটের মতো ঘটনা ঘটত না। এ কারণে দায় একান্তভাবেই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর।
দলীয় নেতারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কোনো সমাধান আনবে না। বরং সরকারকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি নীতিনির্ধারণী কমিটি গঠন করে ভোলাগঞ্জ, জাফলংসহ পাথরসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করে উত্তোলন করা যায় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ দাবি জানায়, ভোলাগঞ্জসহ সব পাথর উত্তোলন এলাকায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা প্রকৃত অপরাধী—বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ—তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে পাথর উত্তোলন ও বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও পরিবেশগত দিক বিবেচনায় একটি টেকসই নীতিমালা জরুরি।