Menu
Back to timeline

নির্বাচন কমিশন নির্মাণ প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার গায়েবী দুর্নীতি: গোপন টেন্ডার, গোপন পকেট

নির্বাচন কমিশন নির্মাণ প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার গায়েবী দুর্নীতি: গোপন টেন্ডার, গোপন পকেট

গত কয়েক মাস থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশন ভবন নির্মাণ প্রকল্প—যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ‘হয়তো’ গায়েব হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি বাজেট অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা, কিন্তু প্রকৃত নির্মাণ কাজের পরিমাণ ও সরবরাহ সামগ্রীর সাথে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তদবির জানায়, প্রকল্প পরিচালনার অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছে ‘টেন্ডার কিল্লা’—একটি গোপন চক্র, যারা অর্ধেক কাজের বিল তৈরি করে পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এই অভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রকৌশল অধিদপ্তরে কাজ করা (কল্পিত) এক শীর্ষ পদের প্রকৌশলী-সহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় যে, ধরা হয়েছিল প্রকল্পে ব্যবহার হবে আন্তর্জাতিক মানের ইট, সিমেন্ট ও লোহা; কিন্তু বাস্তব স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে নিচু মানের উপকরণ। এ কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় পুরোপুরি অন্য কোথাও ব্যবহার হয়েছে—ফ্ল্যাট, বিল্ডিং বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত আয়েশে।

একাধিক সূত্র জানায়, ফর্মাল্ডহাইড মিশ্রিত সিমেন্ট, বালিতে বালি না থাকলেও তদারকি রিপোর্টে ‘চার্টারে থাকা’ উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি নির্মাণের নিরাপত্তা পর্যায়ের বৃত্তান্তে বড় ধরনের গপনের তথ্য ধরা পড়েছে। অবশেষে, একজন সেক্রেটারিয়েটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (নাম আড়াল) গোপনভাবে স্বীকার করেছেন, “আমরা কাজের কিছু চেক করতে গিয়েছি, কিন্তু প্রযুক্তিগত পর্যালোচনায় পেয়েছি ঠিক যেমন খচিত ‘গরম’ চালান – মানে, কাগজে ঠিক, আসলে শূন্য।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ভোটকেন্দ্রিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল উল্লেখ করেছে, “যেহেতু নির্বাচন কমিশনের ভবনেই দুর্নীতি, তাহলে কতটা স্বচ্ছ হবে নির্বাচন?” প্রশ্ন তুলেছে সামাজিক আন্দোলনকারীরা—“এতো বড় প্রকল্পে জনসাধারণের কতটুকু নজর থাকলো?”

সরকারী উত্স জানায়, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—তারা পার পাবে কি? কারণ অভিযুক্তদের অনেকেই প্রশাসনে শক্ত অবস্থান পেয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে বলা হচ্ছে, তদন্ত কমিটিতে যাদের করা হয়েছে তাদেরই সংশ্লিষ্টদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—তাই স্বাধীন তদন্তের সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ।

অবশেষে, এই দুর্নীতি কেবল টাকার হিসাবের বিষয় নয়—এটি গণতান্ত্রিক বিশ্বাসকে ঘেঁষে যায়। নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না যদি তার কেন্দ্রে থাকা ভবনের নির্মাণ হৃদয়হীনভাবে দূষিত থাকে। জনগণের প্রতীক্ষা এখন—একটি ন্যায়নিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও কার্যকর তদন্ত এবং সত্য উদ্ঘাটন।

More from the timeline

View all