Menu
Back to timeline

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওইদিন অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধারের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

নির্বাচন পূর্ব প্রেক্ষাপট

২০০৬ সালের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থির হয়ে পড়ে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রধান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যর্থ হয়ে যায় এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনা-সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং দুই নেত্রী—শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন চলার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। দেশের মানুষ এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখেছিল।

নির্বাচন ও ফলাফল

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৮৭% এর বেশি ভোটার উপস্থিতি ছিল, যা এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অত্যন্ত উচ্চ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ “ডিজিটাল বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং জনগণের সামনে একটি উন্নয়নভিত্তিক রূপকল্প উপস্থাপন করে, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট ২৬২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে পায় ২৩০টি আসন। অপরদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট পায় মাত্র ৩২টি আসন। এই নিরঙ্কুশ বিজয় আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয়।

শেখ হাসিনার সরকার গঠন

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন (প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত)। তবে এই মেয়াদে সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। জনগণ তাঁকে একটি পরিবর্তনের আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল। শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের মূল অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন।

তিনি “রূপকল্প ২০২১” নামে একটি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটি বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ, এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে স্বীকৃতি দেয়। দেশের অভ্যন্তরেও এই ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা পায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়।

উপসংহার

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। এর মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এই সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ পরবর্তী ১৫ বছরে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, শতভাগ বিদ্যুতায়নসহ একের পর এক উন্নয়ন অর্জনে সক্ষম হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই মূলত “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে “স্মার্ট বাংলাদেশ” রূপকল্পে পরিণত হয়েছে।

More from the timeline

View all